মিথ্যা তথ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার লুটপাট
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৩:০৩ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক ভয়াবহ লুটপাটের চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। সামিট মেঘনাঘাট-২, ইউনিক মেঘনাঘাট, জেরা মেঘনাঘাট এবং ইউনাইটেড আনোয়ারা—এই চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ৩০০ কোটি ডলার) অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছে। নিয়মানুযায়ী বিনিয়োগ বেশি দেখালে ঋণের কিস্তি ও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া বেশি পাওয়া যায়, আর এই আইনি সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে কোম্পানিগুলো।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:
-
সামিট মেঘনাঘাট-২: ২১ বছরে তারা বাস্তবতার চেয়ে ৪৫.৭% বা ৬২ কোটি ডলার বেশি আদায় করবে। চুক্তির ১১ থেকে ২২তম বছরে সামিটকে তাদের প্রাপ্যের চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।
-
ইউনিক মেঘনাঘাট: এই প্রকল্পে ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে টাকা লোপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
-
জেরা মেঘনাঘাট: রিলায়েন্স গ্রুপের ফেলে যাওয়া এই কেন্দ্রে ৪৫.৬% বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।
-
ইউনাইটেড আনোয়ারা: এখনো উৎপাদনে না আসলেও তারা সরকারি মূল্যায়নের চেয়ে ৫১.৯% বা প্রায় ৮৬ কোটি ডলার বেশি বিনিয়োগ দেখিয়েছে।
এছাড়া এস আলমের এসএস পাওয়ার কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ না নিলেও প্রতি মাসে ৩৯৩ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা ২৫ বছরে ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে। এমনকি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও (তিস্তা, এনারগন, ডায়নামিক সান) অস্বাভাবিক বিনিয়োগ দেখিয়ে কোটি কোটি ডলার বাড়তি আদায়ের চুক্তি করে রেখেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এই ঘটনাকে বিগত সরকারের ‘বিশেষ কেরামতি’ এবং পরিকল্পিত লুটপাট হিসেবে অভিহিত করেছেন।
