২০৫০ সালে চরম তাপদাহের ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্ধেক
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১১:৫৫ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার সাসটেইনেবিলিটি'-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, চরম তাপমাত্রায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছয়টি দেশ— ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন।
গবেষণা অনুযায়ী, শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে পৃথিবীর ৪১ শতাংশ মানুষ বা প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ চরম তাপের মধ্যে বসবাস করবে। বিজ্ঞানীরা ‘কুলিং ডিগ্রি ডেইজ’ (CDD) সূচকের মাধ্যমে এই ঝুঁকি নিরূপণ করেছেন। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের মতো দেশে জাতীয় গড় তাপমাত্রার চেয়েও স্থানীয় পর্যায়ের চরম তাপমাত্রা অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহের ফলে হিটস্ট্রোক, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. জেসুস লিজানা সতর্ক করে বলেছেন, গরমে শীতলীকরণ ব্যবস্থার চাহিদা বাড়লে এসি বা ফ্যানের ব্যবহার বাড়বে। এতে যদি আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হয়, তবে তা 'কুলিং ট্র্যাপ' তৈরি করবে যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এখন সময়ের দাবি।
