মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৪ ১৪৩২   ০৮ শা'বান ১৪৪৭

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়ে বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১০:৩৯ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

দেশের বিদ্যুৎ খাতে সাশ্রয়ের চেষ্টা সত্ত্বেও কেন্দ্র ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা পাহাড়সম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে কেন্দ্র ভাড়া ছিল ২৫ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কেন্দ্র ভাড়া বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

 

খরচ বাড়ার প্রধান কারণসমূহ: ১. গ্যাস সংকট ও জ্বালানি পরিবর্তন: সস্তা জ্বালানি হিসেবে পরিচিত গ্যাসের সরবরাহ কমায় কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কয়লায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের তুলনায় দ্বিগুণ খরচ হয়। ২. ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির খরচ ডলারে পরিশোধ করতে হয়। গত এক বছরে ডলারের দাম ১২২ টাকায় পৌঁছানোয় পিডিবির ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। ৩. অলস সক্ষমতা: জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৭,৭০০ থেকে ৯,৫০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বা অলস বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এই অলস বসে থাকা কেন্দ্রগুলোর পেছনেই বছরে ১১ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

 

আর্থিক সংকট ও ভর্তুকি: পিডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে খরচ হচ্ছে ১২ টাকা ৩৪ পয়সা, অথচ তা বিক্রি করা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ০৪ পয়সায়। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে গত অর্থবছরে সরকারকে ৫৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লুণ্ঠনমূলক চুক্তির কারণে কেন্দ্র ভাড়া গত দেড় দশকে প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে। এই উচ্চ হারের ভাড়া কমাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষি এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তিগুলো বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে সরকার গঠিত পর্যালোচনা কমিটি।

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, অলস সক্ষমতা কমিয়ে এবং কেন্দ্র ভাড়া পুনঃনির্ধারণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানোর কাজ চলছে। তবে ক্যাবের মতো ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই বিশাল লোকসানের দায় সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।