ভারতের সাথে আপোশ না করায় বেগম জিয়ার উপর অত্যাচার হয়
আবিদ হাসান বাঁধন, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:৫১ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
"ভারতের সাথে নেগোসিয়েশন না করার জন্য বেগম জিয়ার উপর অত্যাচার করা হয় দীর্ঘসময়। "র" জাতীয়তাবাদকে নেগেটিভ ভাবে পোট্রেট করেছে সারাবিশ্বে" বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, অনেক ছাত্রপ্রতিনিধিরা বলেছেন বেগম জিয়া সৎ ছিলেন, সংগ্রামী ছিলেন। কিন্তু সংগ্রামের পিছনে যে জিনিসটি কাজ করে সেটি হচ্ছে ধৈর্য্য। বেগম খালেদা জিয়া ধৈর্য্যশীল ছিলেন। আর ধৈর্য্যশীল হওয়ার জন্য অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা করে উঠে আসতে হয়। আমরা ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আপোষহীন নেতৃত্ব দেখতে পাই। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ম্যাডামের উপর সবার আস্থা ছিলো।
নুরুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা দেখেছি বেগম জিয়ার শাসনামলে এবং শাসনামল পরবর্তী সময়ে ভারতের সাথে নেগোসিয়েশন না করার জন্য তার উপর অত্যাচার করা হয় দীর্ঘসময়। "র" জাতীয়তাবাদকে নেগেটিভ ভাবে প্রোট্রেড করেছে সারাবিশ্বে। কিন্তু আমাদের জিয়া পরিবারের পজিটিভ গুণগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সাবিনা শরমীন বলেন, আমি বেগম জিয়ার ক্ষুদ্র নগন্য একজন ভক্ত। আমার খুব ইচ্ছে আমি যদি বেগম জিয়ার মতো সাহসী হতে পারতাম, দেশ প্রেমিক হতে পারতাম। আমি ভয় পেতাম ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম গুলোতে যেভাবে প্রোট্রেট করা হতো, জেনারেশন কীভাবে না কীভাবে তাকে গ্রহণ করে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেখলাম এই জেনারেশন ঠিকই চিনেছে।
সাবিনা শরমীন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। ওনাকে নিয়ে গবেষণা হবে। তিনি ফেরেস্তা না,তার ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা হবে। কিন্তু বিগত শাসনামলে দেখেছি একজনকে গ্লোরিফাই করতে করতে তিতে বানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, মানুষের মনে জোর করে ঢোকা যায়না। আমরা দেখেছি হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মানুষের মনে প্রবেশ করানো চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তারা সক্ষম হয়েছে? না, হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বেগম জিয়া সবার মনে আছেন। এমন কোনো কাজ করা যাবেনা যাতে জনগণের মন থেকে উনি বের হয়ে যান।
রেজাউল করিম আরো বলেন, আমাদের এই পরিবার খালেদা জিয়ার হাতে তৈরি। এখানে যারা আছেন এবং পরবর্তীতে যারা আসবেন আমাদের কাজই হলো খালেদা জিয়াকে স্মরণ করা। এখানে বেগম জিয়াকে বারবার স্মরণ করা উচিত, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এর জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।
অনুষ্ঠানে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক নীতিনির্ধারণ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়ার নেতৃত্বে রাজস্ব ব্যবস্থায় ভ্যাট চালু, অর্থনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং যৌতুক ও এসিড সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
সভার সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেই আজ এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ ও লালন করতে পারছেন। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই কোনো না কোনো স্থানে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। সেই আস্থার একমাত্র প্রতীক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীন এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক নাছির আহমাদ।
