সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৩ ১৪৩২   ০৭ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয় দলে সাকিবের ফেরার গ্রিন সিগন্যাল দিল বিসিবি

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১০:৩০ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার

বিসিবি পরিচালকদের দীর্ঘ আট ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার সভায় বড় চমক হিসেবে এসেছে সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জানানো হয়, ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে সাকিবকে দলে নিতে নির্বাচকদের আর কোনো বাধা নেই। তবে সাকিবের দেশে ফেরা ও আইনি জটিলতা নিরসনে বিসিবি সভাপতি এখন সরাসরি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার আক্ষেপ ঢাকতেই সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

 

বিস্তারিত মূল সংবাদ: বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে বড় খবর হয়ে এসেছে সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার ঘোষণা। গত শনিবার বিসিবির দীর্ঘ আট ঘণ্টার ম্যারাথন মিটিংয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই অলরাউন্ডার।

 

যদিও সভার আলোচ্যসূচিতে সাকিবের বিষয়টি আগে থেকে ছিল না, তবুও প্রভাবশালী কয়েকজন পরিচালকের জোরালো দাবিতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে জাতীয় দলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ড পরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, সাকিব এখন থেকে সিলেকশনের জন্য এভেইলেবল, তবে তাঁকে যে ভেন্যুতে খেলা হবে সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

 

সাকিবের ফেরার পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলা ও দুদকের আইনি জটিলতা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি দেশছাড়া এবং তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এক সময় সাকিবের ফেরার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিলেও, বর্তমান উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মেয়াদে সরকারের সুর নরম হয়েছে বলে ধারণা করছে বিসিবি সূত্র। সাকিবের নিরাপত্তা ও আইনি সংকট সমাধানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার বিতর্ক থেকে সাধারণ মানুষের নজর সরাতেই সাকিবের ইস্যুটি সামনে আনা হয়েছে। বিসিবির লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে টিকে থাকতে হলে সাদা বলের ক্রিকেটে সাকিবের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বোর্ড। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সাকিব দেশে ফিরবেন কি না বা এর আগে তাঁর মামলাগুলো প্রত্যাহার হবে কি না—সেই বড় প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের হাতে।