গাজায় পর্যটন ও শিল্পনগরী: ট্রাম্প জামাতার মাস্টারপ্ল্যান
তরুকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৪:২২ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
গাজা উপত্যকার যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈঠকে তিনি জানান, গাজার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে এবং তার ভাষায়, “আমাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান আছে… এর কোনো বিকল্প নেই (Plan B নেই)”।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কুশনারের এই বক্তব্য এসেছে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির আলোচনা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে।
কুশনার বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায় তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ওপরই চাপাতে চান। তার দাবি, হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হলে সেটিই গাজার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবরে হওয়া ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপে গঠিত ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর সনদ স্বাক্ষরের পরপরই এই পুনর্গঠন প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, গাজার পুরো সমুদ্র উপকূলজুড়ে একটি বিস্তৃত ‘কোস্টাল ট্যুরিজম জোন’ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে, যার বড় অংশ পর্যটন ও হোটেল খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, মিসর সীমান্তঘেঁষা এলাকায় একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। বন্দরের আশপাশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে একটি বিমানবন্দরের জন্যও জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই এলাকা প্রায় দুই দশক আগে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজার পুরোনো বিমানবন্দরের কাছাকাছি।
কুশনার পুনর্গঠন পরিকল্পনায় দুটি নতুন শহরের ধারণা তুলে ধরেন, ‘নিউ রাফাহ’ এবং ‘নিউ গাজা’। ‘নিউ রাফাহ’ শহরে এক লাখের বেশি স্থায়ী আবাসন ইউনিট, ২০০টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্তত ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ‘নিউ গাজা’কে একটি শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রদর্শিত কম্পিউটার-নির্মিত নকশায় শহরটির অবকাঠামো কাতারের দোহা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মতো আধুনিক নগরীর সঙ্গে তুলনীয় বলে দেখা গেছে।
অর্থায়নের বিষয়ে কুশনার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন সরকার এই প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনে প্রথম দফার অর্থায়নের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি তিনি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার মতে, “এখানে বিনিয়োগ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু গাজার মানুষের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করতে হবে। এখানে দারুণ বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে।”
