শনিবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১০ ১৪৩২   ০৫ শা'বান ১৪৪৭

হাসিনা আপার রেখে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের পাশে আছি: মির্জা ফখরুল

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১২:৫৮ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেশত্যাগ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ভারতে অবস্থান এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা করেন।

 

দেবীপুর শোল্টোহরি বাজার ও আদর্শ গ্রামে আয়োজিত পথসভায় মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের হাসিনা আপা ভারতে চলে গেছেন, তিনি গেছেন ভালো করেছেন। কিন্তু এলাকার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে গেছেন কেন?” বিবাদে না জড়ানোর আকাঙ্খা ব্যক্ত করে তিনি সাধারণ কর্মীদের অভয় দিয়ে বলেন, “আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। আর যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেবো না।”

 

নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুষঙ্গ টেনে আনার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন। জান্নাত এবং ভোটের সমীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: “একটি দল বলছে, তাদের ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। কোনো মার্কায় সিল দিলেই যদি জান্নাতে যাওয়া যেত, তাহলে সবাই জান্নাতেই যেত।”

 

তিনি আরও যোগ করেন, “জান্নাতে যেতে হলে আল্লাহর তুষ্টি অর্জন করতে হবে, নামাজ-রোজা পালন করতে হবে। এ ছাড়া জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়। একটি দল মানুষকে ভুল স্বপ্ন দেখাচ্ছে।”

 

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে ফখরুল বলেন, দেশ চালানোর মতো পরিপক্কতা এখন একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন: “অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো এখন আর কেউ নেই। আমরা ক্ষমতায় ছিলাম, দেশ পরিচালনা করেছি। জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার বা দেশ পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।”

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতিশ্রুতি দেন। সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে চাই। বিভেদের কোনো সুযোগ নেই।”

 

উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন এবং বিজয়ী হলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন।