বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৯ ১৪৩২   ০৩ শা'বান ১৪৪৭

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৫:২০ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

 

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার শুনানিতে যেমনটি বলেছি, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিস্তৃত প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার খুব স্পষ্ট অবস্থানও নিয়েছে। শুনানিতে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সে অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার হোক বা নবনির্বাচিত সরকার- সরকারের বন্ধুদের সঙ্গে আমি সবসময় যোগাযোগ রাখব এবং বাংলাদেশ সরকার যদি কোনো ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়; তাহলে সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।”

 

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, “যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতা শক্তিশালী এবং তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৌবাহিনীর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিমানবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে অপারেশনাল ও জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।”

 

তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদারে সহায়তার অংশ হিসেবে দেশটির সামরিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করছে।

 

ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যের পরে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস। তাদের মুখপাত্র বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বলেন, এই মন্তব্য “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” এবং এতে “ভুল-শুদ্ধ গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, পেছনে সুস্পষ্ট অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চীন ও বাংলাদেশের সহযোগিতা দুই দেশ ও তাদের জনগণের বিষয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কিংবা আঙুল তোলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।”

 

রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন শুনানিতে নেব্রাস্কার সিনেটর পিট রিকেটস বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছিলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ করে সামুদ্রিক খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে চীনের কার্যক্রমের ঝুঁকি তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার সুযোগ ও সুফলও ব্যাখ্যা করবেন।