বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৮ ১৪৩২   ০২ শা'বান ১৪৪৭

মানবতাবিরোধী অপরাধে জয়-পলকের বিচার শুরু

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০১:২৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

লাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে তা খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

এই মামলায় দুই আসামির মধ্যে জুনায়েদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার সকালে তাকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।

 

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি করেন। তারা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলোতে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পাশাপাশি অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

 

গত ১১ জানুয়ারি মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি জয়ের ও পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরুর আবেদন জানান।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন জয় ও পলক।

 

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন। এছাড়া উত্তরা এলাকায় সংঘটিত আরও ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ ডিসেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত। একই দিন গ্রেপ্তার থাকা পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।