বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৮ ১৪৩২   ০২ শা'বান ১৪৪৭

চ্যাটজিপিটিতে বয়স অনুমান ফিচার চালু করছে ওপেনএআই

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১২:১৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীর বয়স অনুমান করার নতুন ফিচার চালু করতে যাচ্ছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট কিশোরের হতে পারে কি না, তা শনাক্ত করে সংবেদনশীল কনটেন্টের ঝুঁকি কমানো এবং শিশু–কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা চ্যাটজিপিটিতে ‘এজ প্রেডিকশন’ বা বয়স অনুমান প্রযুক্তি চালু করছে, যা ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী কার্যকর হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারী ১৮ বছরের কম বয়সী হতে পারেন—এমন সম্ভাবনা শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হবে।

 

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বয়স কম বলে অনুমান করা হলে ওই অ্যাকাউন্টে সংবেদনশীল বা পরিণত বিষয়বস্তুর প্রদর্শন সীমিত করা হবে। সহিংসতা, যৌনতা কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্ট দেখার সুযোগ কমিয়ে আনা হবে। এতে কিশোর ব্যবহারকারীরা অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শে পড়ার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

তবে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, বয়স অনুমানের এই প্রক্রিয়া শতভাগ নির্ভুল নয়। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ভুল করে কিশোরদের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতার আওতায় চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পূর্ণ সুবিধা ফিরে পেতে ব্যবহারকারীকে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

 

পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি জমা দিতে হবে, যা ‘পারসোনা’ নামের পরিচয় যাচাই সেবার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারী আবার স্বাভাবিক বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ফিরে পাবেন।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই ফিচারটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। ইউরোপে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি আইন থাকায়, এই অঞ্চলে উদ্যোগটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে চ্যাটজিপিটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা বা ‘অ্যাডাল্ট মোড’ চালুর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। গত বছরের ডিসেম্বরে ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের প্রধান ফিদজি সিমো জানান, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই চ্যাটজিপিটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ মোড চালু হতে পারে। এর আগে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও বয়স যাচাই করা ব্যবহারকারীদের জন্য পরিণত কনটেন্ট অনুমোদনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

 

বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি। এত বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কারণে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ওপেনএআইয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম অগ্রাধিকার।

 

একই সঙ্গে ব্যবসায়িক দিকেও নজর দিচ্ছে ওপেনএআই। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হবে। রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ওপেনএআইয়ের অর্থবিষয়ক প্রধান সারা ফ্রিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা এক বছর আগে ছিল মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বয়স অনুমান ফিচার চালুর এই উদ্যোগ একদিকে কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট চালুর পথও সুগম করবে। তবে বয়স শনাক্তের নির্ভুলতা এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষা—এই দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও নজরদারি আরও বাড়তে পারে। বাস্তবে এই ফিচার কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে এর প্রয়োগ পদ্ধতি ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার ওপর।