মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১১:২৪ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আজাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় দীর্ঘদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই সাজা স্থগিতের আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ওই বছরের ২২ অক্টোবর সরকার তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার শর্ত হিসেবে তাকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় তিনি আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য হলেও সর্বোচ্চ দণ্ড হওয়ায় অন্যান্য অভিযোগে পৃথক দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল। একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
এই রায়ের মধ্য দিয়েই যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে পলাতক থাকায় এতদিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
