রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৫ ১৪৩২   ২৯ রজব ১৪৪৭

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন কেন, ব্যাখ্যা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত : ০৫:০৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার নৈতিক ও আইনি কারণ তুলে ধরেছেন। এই ব্যাখ্যা তাঁর প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু পক্ষের মন্তব্যে বলা হয়েছিল যে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ক জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন প্রকাশ করা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরব থাকা নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের প্রতিফলন নয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে।”

 

প্রেস উইং ব্যাখ্যা দিয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ইউনূস রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্যাকেজ প্রণয়ন করেছেন, তা দেশের দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়। এটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার মাধ্যম। সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়।”

 

প্রেস উইং-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টার ‘হ্যাঁ’ সমর্থন আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। যে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা সমর্থন না করলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে, ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।”

 

শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের গণভোটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শুধুমাত্র ভোটারদের কাছে বিষয়বস্তু পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সমাধান-নির্ভর সিদ্ধান্তকে সহায়তা করা।