জামায়াত-এনসিপি জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৩:৫২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোটে রয়ে গেছে। ১০ দলের আসন সমঝোতা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াত ও এনসিপির দুই নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের মগবাজার কার্যালয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকের পর আজ রাতেই চূড়ান্ত আসন সমঝোতার ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন না থাকার কারণে এনসিপির আসন সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিপির একজন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, সম্ভাবনা কম, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৈঠকের পর জানানো হবে।
বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি, বহুমাত্রিক আলোচনা চলমান।”
এর আগে আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে শরিক দলগুলো এবং দলের ভেতরে একাধিক স্তরে বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসেনি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও এবি পার্টি জোটে যোগ দেয়।
জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার নীতি থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট আসনের দাবি করতে শুরু করে। ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ১০০টির বেশি আসনে নির্বাচন চেয়েছিল, ধাপে ধাপে দাবি কমিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০টির বেশি আসন দাবি করে। জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন দিতে রাজি হয়।
আসন সংক্রান্ত দাবির বিরোধেই জোট ছাড়ে ইসলামী আন্দোলন, ফলে জোট এখন ১০ দলের।
