ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:৩৫ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার
চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে গেছে। “অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও উদ্ধার সম্ভব হয়নি।”
রিটে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করছে যে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিটে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যান ব্যবস্থা থাকলেও দেশের সাধারণ ভোটারদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকারে’র চরম লঙ্ঘন হবে।
রিটে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, লুট হওয়া সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক।
