বুধবার   ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১ ১৪৩২   ২৫ রজব ১৪৪৭

মার্কিন কূটনীতিকদের ড. ইউনূস

১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন ও গণভোট

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৩:০২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

 

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের এমন সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না।

 

নির্বাচন নিয়ে নানা বক্তব্য ও জল্পনা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।’ একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।’

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, তারা দুজনই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন।

 

বৈঠকে নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রফেসর ইউনূস বলেন, পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হলেও অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্নে অটল রয়েছে। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে।

 

বাংলাদেশ সফররত সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস ও সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যানের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় উঠে আসে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী বাস্তবতা, তরুণ আন্দোলনের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকেন্দ্রিক মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর সম্ভাবনা।

 

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সমর্থন পেলে জুলাই সনদ ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে তিনি বলেন, জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে একমত পোষণ করে আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।