‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’ বলায় বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৪:৫২ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোটেলকর্মী মো. মিলন মল্লিককে আটক করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ হিসেবে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে পাঠানো এক বিবৃতিতে র্যাব জানায়, নিহত কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্ত মিলনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে লিলি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় মিলন।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মিলন স্বীকার করেছে, পরিবারের সদস্যরা বাড়ি না থাকলে তারা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ঘটনার দিন দুপুরে মিলন আবারও লিলিকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো রেস্তোরাঁ কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না এবং মন্তব্য করে, ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে সে হামলা চালায়।
শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় লিলিকে হত্যা করা হয়। সে স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার পরদিন রোববার সকালে নিহতের পরিবার খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় মো. মিলন মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বিকেলের দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। লিলি আক্তার নামের ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।’
নিহতের বড় বোন সোভা শুরু থেকেই মিলনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি খাবারের হোটেল আছে। বৃহস্পতিবার রাতে মিলন খাবার নেওয়ার জন্য বাসায় আসে। এত রাতে বাসায় আসা নিয়ে লিলির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। শনিবার দুপুরেও সে খাবার নিতে আসে, তখন তার আচরণ অন্যরকম মনে হয়েছিল।’
ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে সোভা আরও বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে আমি জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। তখন মিলনও বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা, ঘরের ভেতর সবকিছু এলোমেলো। মেঝেতে আমার বোন পড়ে ছিল। প্রথমে মনে হয়েছিল সে আঘাত পেয়েছে। পরে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে গেলে হিজাব খুলে দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা।’
