নোবেল ট্রাম্পকে দিতে চান মাচাদো, সানন্দে রাজি ট্রাম্প
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৬:০৫ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছায় নিজের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পকে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের নোবেল পুরস্কারের প্রতি দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা সবাই জানে এবং পুরস্কার ভাগাভাগিতে রাজিও হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
গেল বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনেছি তিনি (মাচাদো) আগামী সপ্তাহে আসছেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।” ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এটি তার জন্য হবে ‘বিরাট সম্মানের’।
তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষিত হলে তা হস্তান্তর, ভাগাভাগি বা প্রত্যাহারযোগ্য নয়। কমিটি ও নোবেল ইনস্টিটিউট শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “এ বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য।”
এই নোবেল সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, তাদের একটি কূটনৈতিক দল শিগগিরই ওয়াশিংটনে পৌঁছাবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ভেনেজুয়েলা বিষয়ক ইউনিটের কূটনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মীরা (শুক্রবার ১০ জানুয়ারি) কারাকাসে গেছেন।
মাদুরোকে ‘অপহরণ’ বললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা। তবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনগামী প্রতিনিধিদলে থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
মাচাদো ট্রাম্পকে তার পুরস্কার দেওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, “মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগে মাদুরো দম্পতিকে বিচারের মুখোমুখি করে ট্রাম্প যে ‘সাহসী’ পরিচয় দিয়েছেন, তাতে ভেনেজুয়েলার জনগণ কৃতজ্ঞ। এ কারণেই আমি নিজের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ভাগ’ করে নিতে চাই।”
এর আগে অক্টোবর মাসে নোবেল জয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হলেও ট্রাম্প ও মাচাদোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। মাদুরোর শাসনামলের শেষ দিনগুলোতে মাচাদো আত্মগোপনে ছিলেন, যার ফলে নরওয়ের অসলোতে তার মেয়ে তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
ট্রাম্প মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাচাদোর পক্ষে নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। তিনি ভালো মানুষ হতে পারেন, কিন্তু দেশের ভেতরে তার প্রতি জনগণের সমর্থন বা শ্রদ্ধা কোনোটাই নেই।”
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও বিশ্লেষকদের দাবি: হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করায় ট্রাম্প কিছুটা চটেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংবাদকর্মী বলেন, “মাচাদো যদি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন, এটি আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাপ্য, তবে আজ হয়তো তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতেন।”
