মানবপাচারের ফাঁদে পড়ে প্রবাসে যুবকের মৃত্যু, ফুঁসছে শৈলকুপা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:২৮ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নে বিদেশের পথে বেরিয়েছিলেন শৈলকুপার সোহাগ মোল্লা। কিন্তু ক্যাম্বোডিয়ার এক অচেনা হাসপাতালে নিঃশব্দে থেমে গেল তার জীবন। সোহাগ শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র-রয়েড়া গ্রামের বিল্লাল মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র-রয়েড়া গ্রামের জামিরুল শেখের ছেলে রয়েল শেখ নামের এক মানবপাচারকারীর প্রলোভনে পড়েন সোহাগ। কয়েক বছর ধরে ক্যাম্বোডিয়ায় অবস্থানরত রয়েল নিজেকে বৈধ কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকার দরিদ্র যুবকদের বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ পাততেন।
বিদেশি চাকরির বেতনের লোভ দেখিয়ে, সোহাগের পরিবারকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করেদালাল চক্রের সদস্যরা। কিন্তু ক্যাম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই ভেঙে যায় তার স্বপ্ন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সেখানে তাদের জিম্মি করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো। খাবারের অভাব, বেতন না পাওয়া এবং প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এক পর্যায়ে গুরুতর নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহাগ।
গত মাসে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে সোহাগের অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আরও করুণ দিক হলো, এতদিন পেরিয়ে গেলেও মানবপাচারকারী রয়েল শেখ এখন পর্যন্ত সোহাগের মরদেহ দেশে ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেননি।
একই ফ্লাইটে ক্যাম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন সোহাগের চাচাতো ভাই ইব্রাহীম মোল্লা। সম্প্রতি দেশে ফেরার পর তিনি পরিবারের কাছে পুরো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
