শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৫ ১৪৩২   ২০ রজব ১৪৪৭

ঢাকায় এনসিপির ৮ প্রার্থী: ২ কোটিপতি, একজনের নেই কোনো আয়

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৩:৫৬ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আটটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এই আট প্রার্থীর আয় ও সম্পদে বড় ধরনের বৈচিত্র্য দেখা গেছে।

 

ধনসম্পদ ও আয় উভয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা-২০ আসনের প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা এবং নিজস্ব ও স্বামীর নামে মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেলের বার্ষিক আয় ৪০ লাখের বেশি, সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকা। 

 

তারেক আহম্মেদ আদেলের আয়ের বড় অংশ আসে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ। ব্যবসা থেকে তাঁর আয়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা, এবং সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা কর দিয়েছেন তিনি।

 

নাবিলা তাসনিদের আয় মূলত চাকরি থেকে আসে। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪০ ভরি সোনা, যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটির বেশি। এছাড়া তার ও স্বামীর নামে কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার বড় অংশ কৃষিজমি।

 

সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

 

পেশাগতভাবে, চারজন প্রার্থী নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন- নাবিলা তাসনিদ, তারেক আহম্মেদ আদেল, এস এম শাহরিয়া ও আরিফুল ইসলাম। জাবেদ মিয়া পেশায় আইনজীবী, দিলশানা পারুল ‘উন্নয়নকর্মী’, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘মার্কেটিং কনসালট্যান্ট’ এবং দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ‘পরামর্শক’।

 

নারী প্রার্থী হিসেবে তালিকায় রয়েছেন নাবিলা তাসনিদ ও দিলশানা পারুল। দিলশানা পারুলের আয়ের বড় অংশ দেশের বাইরে থেকে আসে; দেশে তার কোনো আয় নেই। বিদেশে চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ২২ লাখ টাকা। তার ও স্বামীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ বা যানবাহনের তথ্য নেই।

 

সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী এস এম শাহরিয়া। তিনি হলফনামায় কোনো আয় দেখাননি। তবে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার আয় ও ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। অস্থাবর সম্পদ মাত্র ১১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, যা মূলত নগদ অর্থ।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন স্নাতকোত্তর, তিনজন স্নাতক এবং একজন এসএসসি পাস। বয়সের হিসাবে ছয়জন ৩৫ বছরের নিচে, একজন চল্লিশোর্ধ্ব এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।

 

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীসহ ১২ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে এনসিপি। তবে এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে; গত ১০ দিনে অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।