ভেনেজুয়েলার পর এবার কলম্বিয়া ও কিউবায় সরকার পতনের হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০৬ এএম, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর এবার লাতিন আমেরিকার অন্য দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র কলম্বিয়া ও কিউবা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ভেনেজুয়েলার পর তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। একই সঙ্গে তিনি কিউবা সরকারের দ্রুত পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে ট্রাম্প তাঁকে ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পেত্রো কোকেন উৎপাদন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের সঙ্গে যুক্ত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন:
"ভেনেজুয়েলা গভীর সংকটে আছে, কলম্বিয়াও একই পথে। সেখানে একজন অসুস্থ ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন বিক্রি করতে পছন্দ করেন। তিনি খুব বেশি দিন এমনটা চালিয়ে যেতে পারবেন না।"
কলম্বিয়াতে কি ভেনেজুয়েলার মতো কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে?—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব ছিল, "শুনতে ভালোই লাগছে" (Sounds good to me)। এর আগে গত শনিবারই তিনি পেত্রোকে নিজের ‘পশ্চাদ্দেশ সামলে’ (Watch his ass) চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়তো পড়বে না। কারণ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। ট্রাম্পের দাবি, কিউবার এখন কোনো আয় নেই এবং দেশটি অভ্যন্তরীণভাবেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কিউবা তার আয়ের সিংহভাগ পেত ভেনেজুয়েলার তেল থেকে। মাদুরোর পতনের ফলে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবাও পতনের মুখে বলে বিশ্বাস করেন ট্রাম্প।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী ডেল্টা ফোর্সের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে।
ট্রাম্পের এই ‘ডন-রো ডকট্রিন’ (Monroe Doctrine-এর আধুনিক সংস্করণ) লাতিন আমেরিকায় এক নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবা—এই তিন দেশকেই এখন মাদকের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া নজরদারিতে রেখেছে হোয়াইট হাউস।
