ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
রাফিউল ইসলাম তালুকদার
প্রকাশিত : ০৬:১৪ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর “বৃহৎ পরিসরের হামলা” চালিয়েছে এবং এই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা ও তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং স্ত্রীসহ তাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ভেনেজুয়েলাজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে দিকে মার্কিন বাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। কারাকাসসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে হামলাকে “চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন” আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলা প্রত্যাখ্যান, নিন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে অভিযোগ জানাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকার দেশটির ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।”
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কলম্বিয়া:
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “সারা বিশ্বের প্রতি সতর্কবার্তা, তারা ভেনেজুয়েলার ওপর হামলা করেছে।” তিনি আরও বলেন, কলম্বিয়া “ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকার বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করে।” সীমান্ত এলাকায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কিউবা:
প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল হামলাকে “অপরাধমূলক হামলা” বলে অভিহিত করেছেন এবং তা “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “জাতি বা মৃত্যু, আমরা জয়ী হব।” কিউবা সরকারের এক বিবৃতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি প্রতিক্রিয়া দাবি করা হয়েছে।
ইরান:
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইউনাইটেড স্টেটসের সামরিক হামলা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার নীতি লঙ্ঘন, আমরা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি।”
রাশিয়া:
মস্কো এই হামলাকে “সশস্ত্র আগ্রাসন” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হওয়ার জন্য সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলাকে তার নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত, বাইরের কোনো ধ্বংসাত্মক সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই।”
যুক্তরাষ্ট্র:
সেনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, মাদুরো আটক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং আর কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশ:
ইইউ হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা ক্যালাস জানিয়েছেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেনেজুয়েলায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।” এছাড়াও স্পেন এবং ইতালি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
