সোমবার   ০৫ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২১ ১৪৩২   ১৬ রজব ১৪৪৭

নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা, আলোচনায় তিন প্রস্তাব

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত : ০৫:০১ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল ঘিরে নতুন করে আলোচনার গতি বেড়েছে। যদিও গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নির্ধারিত জাতীয় বেতন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, তবু বেতন কাঠামোর বড় সংস্কার, বিশেষ করে গ্রেড পুনর্বিন্যাস এখন কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া সভার নতুন সময়সূচি খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে।

 

নবম পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গিয়ে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে বিদ্যমান ২০ গ্রেড ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিন ধরনের মতামত উঠে এসেছে,

প্রথম প্রস্তাব:
বর্তমান ২০ গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো।

 

দ্বিতীয় প্রস্তাব:
গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬তে নামিয়ে আনা, যাতে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কিছুটা হলেও কমে আসে।

 

তৃতীয় প্রস্তাব:
সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে গ্রেড সংখ্যা ১৪তে নামিয়ে আনার প্রস্তাব। কমিশনের একাংশের মতে, এতে কাঠামোগত বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে এবং একটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক ও ন্যায্য বেতনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেড সংখ্যা বেশি থাকায় নিচের স্তরের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন, যা সামগ্রিকভাবে প্রশাসনিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দপ্তর, সংগঠন ও অংশীজনের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল সংখ্যক মতামত এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং ন্যায়ভিত্তিক একটি বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা।

 

গত জুলাইয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি উঠেছিল, কমিশন তড়িঘড়ি না করে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন সুপারিশ তৈরিতেই জোর দিচ্ছে।

 

সবকিছু অনুকূলে থাকলে পরবর্তী বৈঠকেই গ্রেড সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সময়সূচি নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ, উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও সংশোধিত বাজেট প্রক্রিয়ার ওপর, যেখানে রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।