দুই দিন সূর্যহীন দিনাজপুর, কনকনে ঠান্ডায় থমকে জীবনদিনাজপুর প্রতিন
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৫০ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার
দিনাজপুরে টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত দুই দিন ধরে জেলায় রোদের দেখা মেলেনি। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশায় ঢাকা।
দিন ও রাতের পুরো সময়জুড়েই তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। টানা তিন দিন ধরে এই অবস্থা অব্যাহত থাকায় জনজীবনে একপ্রকার অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুর ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুর ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বগুড়া ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজশাহী ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঈশ্বরদী (পাবনা) ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডিমলা (নীলফামারী) ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বদলগাছি (নওগাঁ) ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোর ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নিকলী (কিশোরগঞ্জ) ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও পথচারীরা। সকাল ও সন্ধ্যায় কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই বিপাকে পড়ছেন। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে আরও কয়েক দিন শীতের এই দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
