দূর্নীতির দায় এড়াতে অফিস সহায়ককে ঢাকার বাইরে বদলি কেন?
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা
প্রকাশিত : ০২:৫৪ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সোমবার
মিরপুর হাউজিং এস্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিন ও অত্র দপ্তরের তিন কর্মচারির দূর্নীতি, ঘুষ ও জালিয়াতির প্রমাণপত্র তুলে ধরা এবং ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর, ঢাকা এর অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাজস্থানী ঢাকার জাতীয় ক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা আকরাম খা হলে রবিবার ২৮ শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইং বিকালে ভুক্তভোগী বলেন, আমি মোঃ হাফিজ আল হোসেন, অফিস সহায়ক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুর, ঢাকা। আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিন ও অত্র দপ্তরের তিন কর্মচারির দূর্নীতি, ঘুষ ও জালিয়াতির খবর জানতে পারায় উল্টো আমাকে তারা তাদের দূর্নীতির দায় আমার উপর চাপিয়ে অফিসিয়াল ভাবে তদবির করে আমাকে ঢাকার বাইরে বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত করে এবং আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৩/২০২৫।
আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিন ও তার তিন কর্মচারিদের দূর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমানসহ আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই। তাই আমি সাংবাদিক ভাইদের সাহায্য ও সহযোগীতা কামনা করছি।
তিনি অফিসার ইনচার্জ মিরপুর মডেল থানা ডিএমপি, ঢাকা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মোঃ হাফিজ আল- হোসেন (৩৭), জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১৯৮৮৭৬১৮৩৬৬২০২৩৬৬, পিতা: মোঃ আব্দুস সোবহান, মাতা: মোছাঃ হাজেরা বেগম, ঠিকানা (স্থায়ী) গ্রাম-খলিলপুর, থানা-সুজানগর, জেলা-পাবনা।
বর্তমান ঠিকানাঃ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (মন্দিরের পার্শ্বে), মিরপুর-২, থানা মিরপুর মডেল, ডিএমপি, ঢাকা-১২১৬। এই মর্মে জানাচ্ছি আমি মোঃ হাফিজ আল হোসেন, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়, মিরপুর হাউজিং এস্টেট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, মিরপুর, ঢাকায় কার্যকালীন সময়ে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব ১। মো: রুহুল আমিন ও তাঁর ০৩ (তিন) সহযোগী ২। মো: শহীদ উল্লাহ, (অফিস সহকারী), ৩। মো: তাজুল ইসলাম, (অফিস সহকারী) ও ৪। সুফিয়া বেগম (দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক পিয়ন (অস্থায়ী) তাদের দূর্নীতি ও ঘুষ ও জালজালিয়াতি খবর জানতে পারায় আমাকে তাদের দূর্নীতি দায় আমার উপর চাপিয়ে অফিসিয়ালি তদবির করে বদলী ও সাময়িক বরখাস্থ এবং বিভাগীয় মামলা দিয়েছে।
এসব অনিয়মের তথ্য আমি যদি ভবিষ্যতে প্রকাশ করি তাহলে আমাকে ঢাকার বাহিরে বদলি করবে ও চাকুরীচ্যুত করবে বলে হুমকী প্রদান করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিন ও তার সহযোগী মোঃ শহীদ উল্যাহ। হুমকী প্রদান করেও থামেননি তারা। অনিয়ম ও জাল জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ করে দিবো সেই ভয়ে আমাকে বিগত-২৭/১০/২৫ ইং তারিখে প্রধান কার্যালয় মাননীয় চেয়ারম্যান জাগৃক মহোদয়ের নিকট ডি নথির মাধ্যমে অতি গোপনীয় ভাবে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পরিকল্পিত ভাবে আমাকে স্বাক্ষর জাল ও ভূয়া ইস্যু নাম্বার দিয়ে বিনা তদন্তে সরাসরি দোষী সাবস্থ করে আমার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত অভিযোগটি মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট প্রেরণ করেন। উক্ত প্রতিবেদনটির বিষয়ে আমার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা এ বিষয়ে প্রেরিত প্রতিবেদনে আমাকে যে দায়ে অভিযুক্ত করে শাস্তি চাওয়া হয়েছে তার কোন প্রমানক উল্লেখ করেন নাই।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিনের ষড়যন্ত্র মূলক কর্মকান্ডের অন্যতম সহযোগী এই সুফিয়া বেগম, দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক পিয়ন। সুফিয়ার সহযোগীতায় বাহির থেকে স্থানীয় ভাড়া করা সন্ত্রাসী অত্র অফিসের ভিতরে নিয়ে আসে। যা প্রশাসনিক কর্মকর্তা তার রুমের ভিতর থেকে পর্যবেক্ষন করছিলেন। আমাকে সামাজিক ভাবে লাঞ্ছিত ও শারীরিক ভাবে আহত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসীরা প্রশাসনিক কর্মকর্তার রুমেই অবস্থান করছিল।
কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তার রুমের দরজা খোলা থাকা সত্বেও তিনি এসে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। গত-০৯/১১/২৫ ইং তারিখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন এর নির্দেশনায় অত্র অফিসের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে এবং আমাকে কোন রকম অবগত না করেই রেকর্ড রুমের তালা ভেঙ্গে অন্য আরেকটি তালা লাগিয়ে দেয় পিয়ন সুফিয়া। যার ফলে আমার অনেক মূল্যবান ডুকুমেন্টস এবং নগদ অর্থ না পাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমি অফিসিয়াল ভাবে অত্র দপ্তরের রেকর্ড রুমটি বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ রুহুল আমিন কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতি না মেনেই তার স্বার্থ হাসিলের জন্য এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্দেশে তার রুম থেকে বেরিয়ে আসা স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী আমার শরীরে আঘাত করার কারনে আমার কোমড়/মেরুদন্ডের নিচের দিকে প্রচন্ড আকারে ব্যাথা পাই। আমি তাদের কাউকেই চিনিনা। তারপরই আমি রেকর্ড রুমটি তালা বদ্ধ করে অফিস থেকে বের হয়ে যাই। শারীরিক ভাবে আহত হওয়ার কারনে আমর কোমড়/মেরুদন্ডের নিচের বাম পাশে প্লেট সরে গিয়েছে।
