নির্বাচন ঘিরে ‘গুপ্ত হামলা’ ও অবৈধ অস্ত্রের শঙ্কা
নাজমুল হুদা
প্রকাশিত : ০৯:৫৬ এএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ রোববার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং নাশকতার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর দিনের আলোয় গুলি এবং এরপর একই রাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক নাশকতার ঘটনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনাকে নির্বাচন বানচালের বড় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, শুক্রবার দিনের বেলায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনাকে সরকার অত্যন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে। এরপর রাতের অন্ধকারেও নাশকতার ঘটনা ঘটে:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা এবং এগুলোর উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানো ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে উপস্থিতি কমানো।
পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে চায় এমন গোষ্ঠীর অনলাইনে আলাপ-আলোচনার তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এই আলাপচারিতায় নাশকতার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় নাশকতার ঘটনাগুলোকে নির্বাচন বন্ধের অপপ্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা এবং 'ফ্যাসিস্ট টেররিস্টদের দমনের' উদ্দেশ্যে অবিলম্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভা শেষে জানান, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।”
আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বৈঠকে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ এবং আসামিদের পালাতে না দেওয়ার জন্য সীমান্ত পারাপারে নজরদারি বাড়ানো। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের হারিয়ে যাওয়া ১ হাজার ৩৩৭টি অস্ত্র (যার মধ্যে প্রায় ৪০০টি পিস্তল) উদ্ধারে জোর দেওয়া। এই অস্ত্রগুলো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যাদের কাছে অস্ত্রের মজুত ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থানে যারা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা।
আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, “কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা সফল হবে না। ভোটার এবং প্রার্থীরা যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে।”
গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার কারণে যারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সরকার একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালুরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
