আইজিপি নিয়োগে প্যানেল বাতিল, ক্ষমতা থাকছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৯:৩৬ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রোববার
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জোরালো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি একটি খসড়া প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় থেকে খসড়াটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের বড় অংশ বাদ পড়ে যায়।
পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আমলাতন্ত্র মূল খসড়ার বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তোলে। বিশেষ করে—
-
আইজিপি নিয়োগে তিন সদস্যের প্যানেল প্রস্তাব
-
নিয়োগ–বদলি–পদোন্নতির ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার সুপারিশ
-
সংবিধিবদ্ধ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের কাঠামো
-
এসব বাতিল করে নতুন খসড়ায় কমিশনকে কার্যত পরামর্শদাতা সংস্থায় পরিণত করা হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন,
“সংস্কারের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা খুবই হতাশাজনক।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০7 সালেও পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগ “মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধকতায়” আটকে ছিল ১৫ বছর।
নতুন খসড়া—
-
কমিশন ৭ সদস্যের, আগের প্রস্তাবে ছিল ৯
-
বাদ পড়েছে অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড–১ কর্মকর্তা, অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড–১)
-
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদমর্যাদা সরকার নির্ধারণ করবে
-
আইজিপি নিয়োগে কমিশনের প্যানেল সম্পূর্ণ বাদ
-
নিয়োগ–বদলি–পদোন্নতির ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে
-
এতে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ বৈঠকের আগের দিন বিএনপি বিবৃতি দিয়ে খসড়া আইন পাস না করার আহ্বান জানায়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন—
“নির্বাচনের আগে এ ধরনের আইন পাসের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য কাজ করছে।”
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে যে ধরনের কমিশন চাওয়া হয়েছিল, নতুন খসড়া তা পূরণ করছে না।
এম আকবর আলী বলেন—
“এভাবে আইন করলে কমিশন হবে লোকদেখানো। প্রকৃত সংস্কারের সুযোগ নষ্ট হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ শনিবার খসড়াটি আলোচনা করলেও অনুমোদন স্থগিত করেছে। আরও সংশোধন শেষে পরবর্তী সভায় এটি আবার উপস্থাপন করা হবে।
