শনিবার   ২৯ নভেম্বর ২০২৫   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪৩২   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জনের পরিচয় গোপন কর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৬:৪৪ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ শনিবার

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. মো. ইসমাইল হোসেন (বিএমডিসি রেজি নং: এ-৩৯১৬২) সরকারি চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপ¶কে না জানিয়ে এবং কোনো ধরনের সরকারি আদেশ (জিও) বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সবুজ পাসপোর্টে “সরকারি কর্মকর্তা” পরিচয় উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তিনি পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ¶ ও বিমানবন্দরে নিজেকে সাধারণ নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


 পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলেও ওই সময়টিতে চুপিসারে ইউরোপের স্পেন সফর করেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, এনওসি ও জিও ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ রাষ্ট্রকে প্রতারণা ও তথ্য  গোপন করার শামিল। এর দায়ে চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্পেনের উদ্দেশে রওনা হন ডা. ইসমাইল। ৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় ফেরেন তিনি।


ঢাকায় পৌঁছে পরদিন (১০ সেপ্টেম্বর) সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ঘোষণা দেন ডা.ইসমাইল।চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ম্যাক্স হাসপাতাল, জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দিগন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সেদিনই নিয়মিত রোগী দেখেছেন।ছুটির সময় হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বহু রোগী ডাক্তারকে না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম এলাকার তরিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙা পা নিয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে আসছি, কিন্তু ডাক্তারকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। খুব সমস্যা হচ্ছে।


” হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। তবে তার বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এনওসি ও জিও ছাড়া সরকারি চিকিৎসকের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


” তিনি আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পর যোগাযোগ করা হলেও ডা. ইসমাইলকে পাওয়া যায়নি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা বলেন, “ডা.ইসমাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেও ব্যবস্থা পাইনি।


 পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের ঘটনায় তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।” এমনকি এর আগে একই পদ্ধতিতে চীন ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এবারের ঘটনার পর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ও বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাসপাতালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, তত্ত্বাবধায়ক ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় অফিস অবহিত থাকার পরও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়রা বলছেন, “যে ডাক্তারকে হাসপাতালে পাওয়া যায় না, তিনি আবার অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করেন-এতে
চিকিৎসার নিরাপত্তা কোথায়?”