শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এর জন্য সেনা-পুলিশের সহায়তা চাইলেন ড. ইউনূস
তরুন কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০:০৮ এএম, ২০ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন করতে সামরিক বাহিনী, পুলিশসহ সব আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে সব বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
বুধবার মিরপুর সেনানিবাসের ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২৫-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘এখন নির্বাচনের সময়। আমরা প্রস্তুত। ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচনের পথে যাত্রা—শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, আনন্দ ও মিলনের সময়। মানুষ তাদের আশা–আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারবে।’
ডিএসসিএসসি কোর্স শেষে গ্র্যাজুয়েশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সংকল্প অর্জন করেছেন, তা জাতির অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে।’
গত বছরের ছাত্র–জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, ‘সে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অতীত শাসনব্যবস্থার অবসান হয়েছে। মানুষের মনে নতুন আশা জন্মেছে—যা কেবল বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা।’
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। এ দেশ ভাগ্যবান—কারণ সব বাহিনী নেতৃত্বের অধীনে জনগণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকেছে।’
ডিএসসিএসসি কোর্সে অংশ নেওয়া বিদেশি কর্মকর্তাদের উদ্দেশেও প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের ঐক্য ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনের কারণে দ্রুত সংকট উত্তরণ সম্ভব হয়েছে, যা জাতিকে স্থিতিশীল রেখেছে।
আইএসপিআর জানায়, ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২৫–এ সেনাবাহিনীর ১৭০ জন, নৌবাহিনীর ৪৫ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১১।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদসচিব, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সামরিক–বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপকসহ বিদেশি মিলিটারি অ্যাটাচিরা।
