বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২২ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১০:০০ এএম, ২০ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিতর্কে আজ গুরুত্বপূর্ণ দিন। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল ও এ–সংক্রান্ত আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ রায় দেবেন। বৃহস্পতিবার এ রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল।

 

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে (৪–৩) সংশোধনীটি বাতিল ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই পুনর্বিবেচনার আবেদন চলে আজকের রায়ে।

 

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ রায় দেবেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন—


বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম,

 

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী,

বিচারপতি মো. রেজাউল হক,

বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক,

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

 

১৯৯৯ থেকে শুরু বিতর্কের আইনি পথচলা

 

ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৯ সালে রিট করেন এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেন। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল থাকে।

 

তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারী পক্ষ ২০০৫ সালে আপিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন।

 

এর পরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বাদ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পূর্বের নির্বাচনগুলো

 

এই ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি জাতীয় নির্বাচন—

✔ ১৯৯৬

✔ ২০০১

✔ ২০০৮

 

এর আগে ১৯৯১ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল রাজনৈতিক সমঝোতায়। সে সরকারের প্রধান ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, যিনি প্রধান বিচারপতির পদ ছেড়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

আজকের রায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচনী কাঠামোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।