ইসরায়েলপন্থী মাচাদোর নোবেল জয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:২৫ এএম, ১২ অক্টোবর ২০২৫ রোববার
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) তার নাম ঘোষণা করা হলেও, ঘোষণার পর থেকেই মাচাদো ও নোবেল কমিটি দু’পক্ষকেই ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।
সমালোচকদের অভিযোগ, মাচাদো ইসরায়েলের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা শান্তির ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—গণহত্যায় সমর্থন দেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান?
ভেনেজুয়েলান নাগরিক ও ‘কোডপিংক’-এর লাতিন আমেরিকা ক্যাম্পেইন সমন্বয়ক মিচেলে এলনা কমন ড্রিমস-এ লিখেছেন, “মারিয়ার মতো ডানপন্থীরা যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়, তখন শান্তির আসলে কোনো মানে থাকে না।”
তার অভিযোগ, মাচাদো ২০০২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত ছিলেন, যেটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল। তিনি মার্কিন প্রশাসনের সহায়তায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও পক্ষে ছিলেন, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।
এছাড়া মাচাদো প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন। তার এসব অবস্থান নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও নরওয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, “যে ব্যক্তি শান্তির জন্য কিছুই করেননি, তাকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে—এতে পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।”
নরওয়ের সংসদ সদস্য বিয়র্নার মক্সনেস বলেন, “মাচাদো ২০২০ সালে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন, যারা গাজায় গণহত্যার জন্য দায়ী। এই পুরস্কার নোবেলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসঙ্গত।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআর মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল দেওয়াকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত ও অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেছে, “এই সিদ্ধান্ত নোবেল কমিটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা
পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
