একাত্তরের ভুল স্বীকারে দ্বিধা তবে লক্ষ্য ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:২২ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সোমবার
শরিয়াহভিত্তিক শাসন কায়েমের স্লোগান থেকে সরে এসে ‘ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সর্বশেষ গঠনতন্ত্রে ‘ইসলামী সমাজ’ শব্দ বাদ দিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা’। তবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে এখনো দ্বিধায় রয়েছে দলটি।
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে দলের ভেতরে মতবিরোধ রয়েছে। একপক্ষ মনে করে, অতীতে গোলাম আযম বা মতিউর রহমান নিজামীর ক্ষমা প্রার্থনার পরও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই একই পথে গেলে রাজনৈতিকভাবে কোনো লাভ হবে না। অন্যদিকে তরুণ ও উদারপন্থি নেতাদের অংশ দাবি করছে, অতীতের ভুল স্বীকার না করলে জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনীতি বাধাগ্রস্ত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত উদারীকরণের অংশ হিসেবে নারী নেতৃত্বকে সামনে এনেছে, অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত করছে এবং নির্বাচনে নারী ও অমুসলিম প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েও ভাবছে। এমনকি ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হিজাববিহীন নারী ও অমুসলিম প্রার্থীও দিয়েছে, যারা বিজয়ী হয়েছেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দলটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আদর্শে দেশ পরিচালনা করবে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, অবিচার দূর করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি পাল্টাতে কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে জামায়াত। বিশেষ করে নারী অধিকার, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার বিষয় তুলে ধরছে তারা। কূটনীতিক মহলে এ রূপান্তরকে বলা হচ্ছে ‘জামায়াত ২.০’।
তবে ভারতের প্রতি দলটির দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। জামায়াত বলছে, প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই, তবে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কারণে সম্পর্ক উন্নয়ন কঠিন। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা মন্তব্য করবে না, তবে মুসলিম নিপীড়নের বিষয়ে অবস্থান জানাতে থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাত্তরের প্রশ্নে জামায়াতের দ্বিধা কাটানোই হবে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রধান শর্ত। অন্যথায় নিজেদের উদারীকরণ প্রচেষ্টা এবং ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের’ নতুন লক্ষ্য বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে।
