শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ২ ১৪৩২   ২৬ শা'বান ১৪৪৭

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মদের বার !

প্রকাশিত : ০১:৩২ এএম, ২০ মে ২০১৯ সোমবার

১৪৭/এ/১ হোল্ডিংয়ের ছয়তলা একটি ভবন। প্রধান ফটকে লেখা ‘ওয়েষ্টার্ন আইডিয়াল ইন্সটিটিউট’ ঢাকা ক্যাম্পাস। যে কেউই দেখে মনে করবে বিশাল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে সন্ধ্যা হলেই এর প্রকৃত চিত্র লক্ষ করা যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতই ছেলে-মেয়েরা দল বেঁধে যায় ওই ভবনের দোতলায়। কারণ সেখানে রয়েছে একটি মদের বার। গান-বাজনাও হয় সেখানে।

স্থানীয়রা বলছেন, বার কর্তৃপক্ষ অবশ্যই অনুমতি নিয়েই তা পরিচালনা করছেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কেন ? আর সন্ধ্যা হলেই ছেলে মেয়েরা যেভাবে বারে প্রবেশ করে তাতে আশপাশের বাসিন্দারা বিব্রত হন। তাদের ছেলে মেয়েরাও পড়ে কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। রোজার মাসেও এ অবস্থা চলায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বার সরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
‘ডমিনাস পিজা’ নামক ওই মদের বারের ম্যানেজার ফেরদৌস বলেন, সরকারের অনুমতি নিয়েই তারা বার পরিচালনা করছেন। বিষয়টা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও জানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতর কেন বার পরিচালনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমোদন নেই। ওটা একটা ট্রেনিং ইন্সটিটিউট মাত্র।

অভিযোগ রয়েছে ওই বারে সন্ধ্যার পর উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েরা আসা যাওয়া করেন। রাত বাড়লেই তাদের হেলেদুলে বের হতে দেখা যায়। অনেক সময় বারের সামনের প্রধান সড়কের রাস্তায় তাদের বেলেল্লাপনায় বিব্রত অপবস্থায় পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, ওই বারটি অনমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই করা হয়েছে কি না তা জানা নেই। সাধারনত বারের ৫শ’ গজের মধ্যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে অনুমতি দেয়া হয়না বারের। তবে গ্রীনরোড, মিরপুর রোডসহ বেশ কিছু এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন বেশকটি বার রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ডমিনাস পিজা বারটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোহাম্মদপুর সার্কেলের আওতাধীন। ওই সার্কেলের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোহার পাওয়ায় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননা। তাছাড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই তারা এ বার পরিচালনা করছেন।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, যেভাবে ব্যাঙের ছাতার মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠছে সেভাবে মদের বারও বাড়ছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বার অনৈতিক। এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাই দায়ী। তিনি কিভাবে বার কর্র্তৃপক্ষ আবার শিক্ষপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া দিলেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান বিপ্লব কুমার সরকার। তথ্য সূত্র- আমাদের সময়.কম