সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

নিখোঁজের ৪ দিন পর বাড়ির অদূরে সোহানের মাটি চাপা মরদেহ উদ্ধার

জাকির হোসেন সুমন

প্রকাশিত : ১১:৩৪ এএম, ২০ মে ২০২৩ শনিবার

নিখোঁজের চারদিন পর সোহানের সন্ধান মিলেছে। তবে জীবিত নয়,মৃত। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার রুদ্রগাঁও এলাকার একটি বাগানে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় আট বছরের এই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১৯ মে) সকালে বাড়ির পাশের একটি বাগানে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান পান এক নারী। প্রথমে স্বজন এবং পরে পুলিশকে জানানো হয়। এর আগে গত সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় সোহান নামের এই শিশু নিখোঁজ হয়।

এদিকে, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিখোঁজের পর কেনো এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরইমধ্যে তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার।

স্বজনরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না শিশু সোহানকে। এমন পরিস্থিতিতে আশপাশে খুঁজে না পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা আনোয়ার হোসেন। 

তারপর পুলিশও তৎপর। কিন্তু খোঁজ মেলেনি কোথাও। অবশেষে শুক্রবার সকাল এগারোটায় বাড়ির অদূরে শিশুটির সন্ধান মেলেছে। তবে জীবিত নয়। সেখানে বাগানে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান মেলে। আর তা দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে হাজারো মানুষের।

এলাকাবাসী এবং স্বজনরা আরও জানান, তাদের ধারণা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা জড়িতদের খুঁজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শিশু সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান,তার দুই সন্তানের মধ্যে সোহান ছোট। বেশ আদরের ছিল। এই সন্তানের গায়ে কখনও টোকাও দেননি। কিন্তু কি কারণে প্রতিপক্ষ ঘাতকরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

এদিকে, শিশু সোহান নিখোঁজের পর থেকেই তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, শিশু সোহানের বাড়ির আশপাশ, ঝোপ জঙ্গল এবং পুকুরেও সন্ধান চালানো হয়। ছোট্ট শিশুটি কোনো কারণে অপমৃত্যুর শিকার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু তাকে যে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হবে। তা কল্পনাও করা হয়নি। অন্যদিকে, কেনো এবং কি কারণে এমন হত্যাকাণ্ড তা খুঁজে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ।

এরইমধ্যে থানা ও জেলা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি ঘটনা উদঘাটনে মাঠে নেমেছে বলে জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) পলাশ কান্তি নাথ। তিনি জানান,গত সোমবার থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির পর থেকে তৎপর ছিল পুলিশ। তবে দ্রুত এই ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার রুদ্রগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে সোহান এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এদিকে,গতকাল শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।