বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৭ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

কালীগঞ্জের মরণ ফাঁদ অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে প্রতিনিয়ত ঝড়ছে প্রাণ

কালীগঞ্জ গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৬:২৬ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার

গাজীপুরের কালীগঞ্জ অঞ্চল দিয়ে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা- চট্টগ্রাম রেলপথের সমান্তরালে অতিক্রম করেছে বিভিন্ন সড়ক পথ। ব্যস্ততম এই রেলপথ ও সড়ক পথের ক্রসিংগুলোতে প্রয়োজনীয় গেইটম্যান এবং গেইটবার না থাকায় ক্রসিংগুলো এক একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একের পর এক ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। অর¶িত এসব রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন যানবাহনের দুর্ঘটনায়
প্রাণহানীসহ অনেককে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে এই রেলপথে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ভৈরব হয়ে ময়মনসিংহে প্রায় ৫০টি ট্রেন যাতায়াত করে। কালীগঞ্জ উপজেলায় ২টি সুর¶িত ও ৮টি অর¶িতসহ মোট ১০টিরও বেশী রেলক্রসিং রয়েছে। এগুলো হলো পুবাইল ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া,
নলছাটা, দড়িপাড়া, বান্দাখোলা কামারবাড়ী, তুমলিয়ার কাপাসিয়া মোড় সংলগ্ন সাদ্দাম মার্কেট, বড়নগর, বালীগাঁও মোড়ল মার্কেট ও বালীগাঁও চৌধুরী বাড়ি, বাঘারপাড়া, এবং মূলগাও মাদ্রাসা সংলগ্ন রেলক্রসিং। এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে শিমুলিয়া ও দড়িপাড়া এলাকার দু’টি রেলক্রসিংয়ে রেলওয়ের অনুমোদিত গেইটম্যান ও গেইটবার থাকলেও অরক্ষিত বকি ৮টি রেলক্রসিং খুবই ঝুকিপূর্ণ। এখানে নেই কোন গেইটম্যান ও গেইটবার। ফলে পথচারী, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের যানবাহন প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এসব রেলক্রসিং। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মাঝরাতে সুরক্ষিত দড়িপাড়া রেলক্রসিং-এ সিলেটগামী সুরমা মেইল ট্রেনের
সঙ্গে প্রাণ মিল্কের একটি ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষ হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ঢাকা-ভৈরব রেল
যোগাযোগ প্রায় ৭ ঘন্টা বন্ধ থাকে। পরে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে রেল চলাচল স্বাভাবিক করে।
এছাড়াও গত ৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় সাইফ পাওয়ারটেক লিঃ এর একটি প্রাইভেট কার নলছাটা
রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় নোয়াখালী-ঢাকাগামী উপকূল একপ্রেস ট্রেন কারটিকে (ঢাকা
মেট্রো-গ-২২-৭৩১০) ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কার আরোহী উপজেলার ফুলদী গ্রামের
সোহেল হাশিম খান (৫৪) মারা যায় এবং ড্রাইভার সজিব আহম্মেদ (৩৫) গুরুতর আহত হয়। গত ২১
মে সকাল ১০টার দিকে কচি তাল (আসারী) বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান নলছাটা অর¶িত
রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় ঢাকাগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন পিকআপ ভ্যানটিকে
ধাক্কা দিলে পিকআপ চালক পূবাইল বড় কয়ের এলাকার জাকির (২২), তার সহকারী একই এলাকার মৃদুল
(১৫) ও তাল ব্যবসায়ী নারায়নগঞ্জের মহসিন (৫০) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এর আগে ২০২১ সালের ১
অক্টোবর অর¶িত এই রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কার আরোহী ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসার আব্দুর রহিম খাঁন (৭২) নিহত হন। দূর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী
যুগ্ম সচিব (ওএসডি) দিলজুয়ারা খানম ও গাড়ি চালক গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয়রা জানায়, কিছু দিন পরপরই রেলওয়ের অর¶িত রেলক্রসিংগুলোতে ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এসকল রেলক্রসিংয়ে গেইটম্যান না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ¶োভ বিরাজ করছে। দ্রুত
রেলক্রসিংগুলোতে গেইটম্যান ও গেইটবারের ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপ¶ের কাছে দাবী জানান স্থানীয়
এলাকাবাসী। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে আড়িখোলা ষ্টেশন মাষ্টার ইনচার্জ দিলীপ চন্দ্র দাসের সাথে
মুঠো ফোনে বলেন, কালীগঞ্জে অনেকগুলো রেলক্রসিং রয়েছে। তার মধ্যে শিমুলীয়া ও দড়িপাড়া
রেলক্রসিং সুরক্ষিত। অবশিষ্ট ক্রসিংগুলোতে কোন গেইটম্যান ও গেইটবার না থাকায় বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার খবর পাই। সার্বিক বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছি। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোঃ শহদিুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, পুবাইল ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ও দড়িপাড়া রেলক্রসিং দু’টিতে গেইটম্যান ও গেইটবার আছে। কালীগঞ্জের অন্য কোন রেলক্রসিংয়ে গেইটম্যান বা গেইটবার দেয়ার পরিকল্পনা আপাঃতত রেলওয়ের নেই। পরবর্তীতে যদি কখনো নতুন করে গেইটম্যান বা গেইটবার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।