বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

দেবীগঞ্জে ব্যক্তিগত ক্ষোভে নিরপরাধ ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৭:০৪ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সোমবার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ায়, সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানি সরদার এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এর আগে গত ১৬ই জানুয়ারি ২০২৩ উপজেলার সুন্দরদ্বিঘী ইউনিয়নে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর (৫)১ লঙ্ঘন আইনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানি সরদার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভুক্তভোগী মোঃ কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি মোঃ কামাল উদ্দীন ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক গত ২৩/১০/১৯৮১ ইং তারিখের দলিল নং- ৫৭৪৪ এর মূলে ১৬ শতক জমি ক্রয় করি। যার দাগ নং- ২৪৫০। ধরন ডাঙ্গা। সরকারি রাজস্ব কর পরিশোধের মধ্য দিয়ে ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন - ধরে ভোগদখল করে আসিতেছি। এমতাবস্থায় জরুরি টাকার প্রয়োজনে উক্ত জমিটি স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাহেব আলী, পিতা তমিজ উদ্দিন গ্রাম সুন্দরদিঘী ডাকঘর সুন্দরদিঘী থানা দেবীগঞ্জ জেলা পঞ্চগড় এর কছে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বর্গা প্রদান করি। জমিটি তুলনামূলক ভাবে বেশি উঁচু ও এক ফসলি হওয়ায় বর্গাচাষী মোঃ সাহেব আলী আমাকে ও আমার ভাই  মোঃ আব্দুর রাজ্জাক'কে একাধিকবার কিছু মাটি কর্তন করে নিচু করে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করার পরামর্শ দেন। এমতাবস্থায় আমার জমিটির পাশের জমিতে পুকুর খননের জন্য ভেকু গাড়ি আসলে পুকুর খননের পূর্বেই আমার জমিটি দুই ফসলী রূপান্তরিত করার জন্য একটু খনন করে দেয়। খননের সময় অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ইং তারিখে জানতে পারি জমির মাটি কর্তন করে নিচু করা হচ্ছে। পূর্ব পরিকল্পনার জের ধরে দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানি সরদার ঐ স্থলে উপস্থিত হয়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। ঐ সময় তিনি লোক মারফতে আমার বাবাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এবং আমার প্রতিবন্ধী চাচা মোঃ বাবুল হোসেন ঘটনাস্থলে আসলে আমার বাবা মোঃ চাঁনমিয়া(৮৫)কে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা ও প্রতিবন্ধী ) চাচা মোঃ বাবুল হোসেন (৫৫) কে ১মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাথে আরো দুইজনকে কারাদণ্ড প্রদান করেন। আমার বাবার বয়স ৮৫ বছর আমার বাবা বার্ধক্য জনিত কারণে নানা রোগে ভুগিতেছে। আমার বাবা বর্তমানে ভারতের নারায়না হাসপাতাল বেঙ্গোলোতে হার্ড এর আওতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। আমার বাবা বয়স্ক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমার চাচা মোঃ বাবুল হোসেন দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থজনিত প্রতিবন্ধী এবং সরকারি অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী। আমার বাবাকে সহ চার জনকেই পুলিশের সহায়তায় দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে আসেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানি সরদার আমাদের'কে হুমকি দিয়ে বলে, দশ মিনিটের মধ্যে দুইলক্ষ টাকা নিয়ে না এলে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানি সরদার তার - গাড়ির ড্রাইভারের নম্বর থেকে আমাকে ফোন দেন। যার নম্বর- ০১৭১৫৩৪৪৮৬৫ সময় ১.০৫ মিনিটে আমি মোঃ কামাল উদ্দীনকে কল দিয়ে বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার জন্য না আসলে জমিটি খাস খতিয়ানে দিবেন এবং আমার বাবাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। পরে আমার অসুস্থ বাবার কথা চিন্তা করে দুইলক্ষ টাকা জোগাড় করে জমা দিয়ে আমার বাবাকে মুক্ত করি। আমার বাবা ও আমার চাচা প্রতিবন্ধী এর সাথে ঐ জমির কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমার অজান্তেই বর্গাচাষী চাষাবাদের সুবিধার্থে ও দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করার জন্যে মাটি কর্তন করে নিচু করার কাজ করেছে। কোন ভাবেই জমি নষ্ট করা হয় নি। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে আইনে আমার বাবাকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা ও প্রতিবন্ধী চাচাকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে তা মূলত ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। আমি মোঃ কামাল উদ্দীন একজন গণমাধ্যম কর্মী ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ সভাপতি। ইতিপূর্বে জমি খারিজ সংক্রান্ত কাজে তার কাছে গেলে তিনি আমার উপর চড়াও হন। ইতিপূর্বে উনার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পরপর দুইটি লিখিত অভিযোগ হলে আমি মোঃ কামাল উদ্দীনের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর সদস্যরা তার সংবাদ প্রকাশ করে। এ সবের কারনে তিনি আমি মোঃ কামাল উদ্দীনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিপদে ফেলার সুযোগ খোঁজেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল হারিজকে সোর্স হিসাবে ব্যবহার করেন তিনি। কারণ খারিজের সাথে তার সব সম্পর্ক ছিল। মোঃ আব্দুল হারিজ মাটি খননের সংবাদ দিলে এর পর গত ১৬/০১/২০২৩ ইং তারিখে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। ঘটনাস্থলে কাউকে কোন কথা বলতে দেন নাই। কেউ কথা বলতে চাইলে তাকেও জেল দিবে বলে হুমকি প্রদর্শন  করেন। বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার পর আমি আপিল করার জন্য বিজ্ঞ ভারপ্রাপ্ত নকল বিভাগ, পঞ্চগড়ে ১৭-০১-২০২৩ইং নকলের জন্য আবেদন করিলে অন্যান্য তিনটি নকল প্রদান করে। কিন্তু আমার নকলটি আটক করে দেয়। এখন পর্যন্ত আমাকে নকল দেওয়া হয় নি। প্রতিবন্ধী চাচাকে কারাগার হইতে জামিন করতে ও পারিবারিক ভাবে পরামর্শ করে সংবাদ সম্মেলন করিতে কিছুটা সময় বিলম্ব হইল। এমতাবস্থায় আপনাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। যার অনুলিপি সুযোগ্য জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি/সম্পাদক বরাবর জমা দিয়েছি। আমার বাবার উপর জরিমানা দুই লক্ষ টাকা ও আমার প্রতিবন্ধী চাচাতো ভাই মোঃ বাবুল হোসেনের কারাদন্ডের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও উদ্ধতর্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় ভুক্তভোগী মোঃ চাঁনমিয়া বলেন, আমাকে ডেকে এনে দুইলক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। আমি এসবের কিছুই জানিনা। আমি অসুস্থ মানুষ। কয়েক বছর ধরে ছেলেদের সাথে পৃথকভাবে খাই। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। খুবই অসহায়। আমি ভালোভাবে শুনতে পাই না। আমি কাঁদতে কাঁদতে স্যারকে বললাম আমার কোন দোষ নেই। তিনি আমার কথা শোনলেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চাই। উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, তিনি এ সময় কারো কোন কথা শোনেন নি। কথা বলতে গেলে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবং আমাদেরকেও নিয়ে যাবে বলে হুমকি প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাশেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিউল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আরমান হোসেন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান, দেবীগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য মোঃ নয়ন ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম ফেরদৌস বলেন, আমাদের কাছে অনেক ফোন আসে। আমরা চাইলেই যখন তখন ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারিনা। কোথাও অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি করলে সেটাকে তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেওয়াটাই হচ্ছে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট। আসলে ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বিচার করেন সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এতে যদি পরিচালনায় তার বিচার ভুল হয়,প্রসেসে ভুল হয়, তাহলে এবিষয় ভুক্তভোগীরা হায়ার অথরিটি বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আপিল করতে পারেন।