বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

খাস জমি দখল করে পুকুর খনন ভূমিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ০৭:৩৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ শনিবার

খাস জমি দখল করে পুকুর খনন ইউনিয়ন ভূমিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি অন্যায় ভাবে দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে মোঃ আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ১ নং অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় মৌজার জে এল নং -৯, সিট নং-৩ এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাস খতিয়ান মুক্ত জমি ২৪৬৭ দাগে। ইউনিয়নের জামাদার পাড়া গ্রামের মোঃ আলী হোসেন এর ছেলে মোঃ আমির হোসেন নিজের জমির সাথে সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি সহ পুকুর খনন করেছে। পুকুরে মাছ চাষ করছে। পুকুরের পারে উঁচু করে বেঁধে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত দুটি কালভার্টের ভেতর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি ভূমি আইন লংঘন করে অন্যায় ভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশ দিয়ে গভীর গর্ত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কারণে খাস জমি দখল করে পুকুর খননের ঘটনা ঘটেছে।  ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব হল সরকারি সম্পদ রক্ষা করা। তিনি তা না করে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আমির হোসেনকে খাস জমি দখলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। আমির হোসেন যখন পুকুর খনন করেন বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আলী হোসেনের থেকে অর্থ গ্রহণ করে সরকারি খাস জমিতে পুকুর খননের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২৪৬৮ নং দাগে আমির হোসেনের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। ২৪৬৭ নং দাগটি এক নং খাস খতিয়ানভুক্ত। ২৪৬৭ নং দাগের পূর্ব পাশে ২৪৭২ নং দাগটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। আমির হোসেন নিজের জমিতে পুকুর খননের সময় ২৪৬৭ নং দাগের ভেতর পুকুর খনন করেন। পার্শ্ববর্তী ২৪৭২ নং দাগের পার ঘেঁষে গর্ত করে পুকুরের পাড় নির্মাণ করেন। স্থনিয়রা জানান, বছরখানেক আগে আমির হোসেন এখানে পুকুর খনন করেছে। সে সময় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সাথে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে মর্মে আমরা স্থানীয় জনগণ বারবার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি কোন জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি প্রায় ছয় বছর যাবত এই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছি। বছরখানেক আগে আমির হোসেন পুকুর খনন করেছে। খননের সময় আমি তাকে নিষেধ করি। আমি তার কাছ থেকে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করিনি।আমার জানামতে আমির হোসেন ২২ শতক খাস জমি দখল করে গভীর পুকুর করেছে। তার ৬ বছরের দায়িত্ব চলাকালীন সময়ে আমির হোসেন কিভাবে পুকুর খনন করলো এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর তিনি দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন আমির হোসেনের একটা বড় জমি আমরা দখল উদ্ধার করি এবং সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করি। পরবর্তীতে এই জমি উপজেলা সহকারী  ভূমি কমিশনার মৌখিকভাবে তাকে চাষাবাদ করার  অনুমতি প্রদান করেন। আমির হোসেন অন্যায় ভাবে ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি চলাচলে দেখা সৃষ্টি করেছে। সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখল করে জমির আকৃতি পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এবং ভূমি আইন লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি সীমানা দিয়ে ড্রেন খনন করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা ? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের সার্ভেয়ার দ্বারা জমি মাপ দেওয়ার পর আমির হোসেনকে নোটিশ করব।আমির হোসেন ঐ জমি লিজ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঐ জমি লিজ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আমিনুর ইসলাম কুদ্দুস খাস জমি দখল করে পুকুর খনন ও অন্যায় ভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের সত্যতাস্বীকার করে বলেন। আমির হোসেন যা করেছে অন্যায় করেছে। তাকে আইনের আওতায় না এনে সরকারি জমি ফিরিয়ে নেওয়া হোক। কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জমি মাপ করার সময় আমি সব জানতে পারি।