জাজিরায় দুর্ঘটনা: ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত ছিলেন চালক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১:১৫ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ বুধবার
জাজিরায় ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ।
শরীয়তপুরের জাজিরায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের নিচে ঢুকে যায় অ্যাম্বুলেন্স। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে রোগীসহ ৬ আরোহী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত থাকায় হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ রোগীকে বহন করে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চালকের অসতর্কতায় শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয় গাড়িটি।
পুলিশ জানায়, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটি পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে গতিরোধক পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান অ্যাম্বুলেন্সের রোগীসহ ছয় আরোহী।
দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাক পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। আর মরদেহগুলো নেয়া হয়েছে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
পুলিশ বলছে, ঘনকুয়াশা আর চালকদের অসাবধানতায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, টানা ২৬ ঘণ্টা ডিউটি করে চালক ক্লান্ত ছিলেন এবং ঘনকুয়াশার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্য প্রাইভেটকারে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান পরিবারের বাকি ৪ সদস্য। কিন্তু তারা জানতেন না ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর। পরে স্বজনদের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা সবাই।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত পটুয়াখালীর বাসিন্দা জাহানারা বেগম সোমবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ভর্তি করা হয় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন ছোট মেয়ে লুৎফুন নাহার ও পরিবারের লোকজন। তাদের সামনে আলাদা প্রাইভেটকারে যাচ্ছিলেন বড় মেয়ে মিতু, মেয়ে জামাইসহ আরও ৪ জন। প্রাইভেটকারটি ঢাকায় পৌঁছালে মোবাইলে খবর আসে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার। পরে ঢাকা থেকে তারা প্রাইভেটকারে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তার আগেই জাহানারা বেগম ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ছোট মেয়ে লুৎফুন নাহারসহ মারা যান ৬ জন।
স্বজন ও এলাকাবাসী বলেন, এ শোক আমাদের পাথর করে দিয়েছে। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
