শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৮ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত

আবুল কালাম খান

প্রকাশিত : ০৫:৪৬ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ রোববার


 গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় রোববার (১৫ জানুয়ারী) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে সবচেয়ে বড় মাছের মেলা। যা জামাই মেলা হিসবেও পরিচিত। উপজেলার জামালপুর, মোক্তারপুর ও জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ মাছের মেলা মাঘ মাসের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়। মেলার দিনটিকে ঘিরে এখানে দিনব্যাপী চলে আনন্দ-উৎসব। দিনটির জন্য সারাটি বছর অপে¶ায় থাকেন উপজেলাবাসী। কারণ, এ গ্রামসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মেয়েরা তাদের স্বামী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ীতে বেড়াতে আসেন মেলা উপলক্ষে। জামাইরা হচ্ছেন ওই মেলার মূল ক্রেতা ও প্রতিযোগী। তারা মেলার সবচেয়ে বড় মাছটি কিনে শ্বশুর বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার যেমন চেষ্টা করেন তেমনি শ্বশুরগণও চেষ্টা করেন বড় মাছটি কিনে মেয়ে, জামাই ও নাতি নাতনীদের আপ্যায়ন করতে। বিনিরাইলের মাছের মেলা যেন জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার এক নিরব প্রতিযোগীতার ময়দান।
মেলাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শণার্থীরা আসেন। এছাড়াও গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ কেবল মাছের মেলা উপল¶েই কালীগঞ্জে আসেন। এবারের মেলায় প্রায় ৪ শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী বাহারি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় চিতল, বাঘাইড়, আইড়, রিডা, বোয়াল, কালিবাউশ, পাবদা, গুলসা, ইলিশ, গলদা চিংড়ি, বাইম, রূপচাঁদা, সুরমা, কোরাল, কাইক্কা, শাপলা, পোয়া ও টোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা রকম দেশী বিদেশী মাছও। মাছের মেলা
হলেও এখানে আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি, পোষা পাখি ইত্যাদির পসরাও বসে।
মেলায় আসা মাছ বিক্রেতারা জানান, তারা ২০/২৫ বছর যাবৎ মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসেন। শুরুতে বেচা-কেনা ভালো হলেও বর্তমানে তেমন হয়না। তবে ঐতিহ্যের কারণে
বিনিরাইলে মাছের মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শকের সংখ্যাই বেশী। বিনিরাইলের মাছের মেলা সংলগ্ন বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের রিয়াদ খান বলেন, স্থানীয় জামাইদের নজর বিনিরাইলের মাছের মেলার বড় মাছটার দিকেই থাকে। মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে মেলায় নিয়ে আসেন। মাছের চাহিদা অনুযায়ী দাম হাঁকানো হয়। শুরুতে এ মেলা শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও বর্তমানে এটা সকল ধর্মের মানুষের কাছে ঐতিহ্যবাহী উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিনিরাইল মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু জানান, অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবের পর মেলাটি প্রথম প্রথম ক্ষুদ্র পরিসরে অনুষ্ঠিত হতো। প্রায় ২৫০ বছর যাবৎ মেলাটির আয়োজন করে আসছেন এলাকার মুরুব্বিরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন শেখ বলেন, বৃটিশ শাসনামল থেকে শুরু হওয়া বিনিরাইলের মাছের মেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। মেলাটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। মেলায় হাজার হাজার ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শণার্থীর আগমন ঘটে থাকে। মাছের মেলাটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচাকেনা যাই হউক মেলাটি আমাদের ঐতিহ্য আর কৃষ্টি-কালচারকে বহন করছে এটাই বড় কথা।