শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৩ রজব ১৪৪৭

মেহেরপুরে বেড়েছে গম চাষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার

অথচ আগের বছর গুলোতে মেহেরপুরে গম ক্ষেতে  ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের কারণে  কৃষি অফিস গম চাষের  ব্যাপারে চাষিদের  নিশেধ করেছিল।কৃষি অফিসের ভুল পরামর্শে গমের চাষের  পরিবর্তে অনেকে  পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছিল  মসুরী ও তামাক।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত করার পরও ২০২১ সালে জেলায় ২ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছিল।আগের বছরের মতো গমক্ষেতে  ব্লাস্ট রোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।গত মৌসুমে  ঝুঁকি নিয়েও যারা  গম চাষ করেছিল  তারা যে আশা  করে ছিলো তার অধিক বেসি ফলন হওয়ায়।চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে।গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা চাষীদের।

গাংনী উপজেলা  কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান,এ বছর রবি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে।
গাংনী উপজেলার  ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক ফজলুল হক জানান, গত বছর তিনি ৬৬ সতক জমিতে গম চাষ করেছিল।তাতে ফলন হয়েছে ৩০মণ।এ বছরে একই জমিতে গম চাষ করেছে আশা করছে আগের চেয়ে এবছর ফলন ভাল হবে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, বছর তিনি ৫০ সতক জমিতে  গম চাষ করে ছিলেন তাতে ফলন পেয়েছেন ২২ মণ গম তিনি এবছর ১একর  জমিতে  গম চাষ করেছেন।আওবাহ ভাল হলে এবছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।

ধর্মচাকী গ্রামের মেম্বর  বশির আহমদে জানান, গত বছর তিনি ৪বিঘা জমিতে গম চাষ করেছিলেন তাতে ফলন হয়েছিল প্রায় ৬০মণ।বাজারে গমের চাহিদা ও মূল্য বুদ্ধি হওয়ায়  এবছর তিনি ২ একর  জমিতে গম চাষ করেছেন ।

গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের মেম্বর শাবান আলী জানান, উচ্ছ ফলনশীল জাতের বারি গম-৩৩ চাষ করেছেন।গমচাষের শুরু থেকেই ব্লাস্ট নামের ছত্রাক জনিত রোগটির বিষয়ে এবার যথেষ্ট সজাগ আছেন তারা।তাই সময়মত জমির পরিচর্যা করাসহ বøাস্ট ছত্রাক থেকে বাঁচতে বালাইনাশক স্প্রে  করবেন বলে জানান তিনি।

মুজিবনগর উপজেলার মনাখালি গ্রামের  কৃষক খায়রুল  ইসলাম,জানান, চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে  বারি-৩৩ জাতের গম চাষ করেছেন।মাঠে ফসলের অবস্থা ভাল। চাষকৃত জমিতে একর প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মণ গম পাওয়ার আশা করছেন।

মেহেরপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা সংকর কুমার মজুমদার  জানান, গত বছর মেহেরপুর  জেলার কিছু কছিু গমক্ষেতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গমের দানা পরিপূর্ণ না হয়ে চিটা দেখা দিয়েছিল।একারণে এবছর  জেলায় বারি ৩৩ জাতের গম চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।গমক্ষেত গুলোতে এ রোগের আক্রমণের আশংঙ্কা থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের গম চাষে প্রথম থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ উপেক্ষা করে গত বছর যেসব কৃষক গম চাষ করেছিল,কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সময় মত গমক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করায় ফলন ভাল হয়েছিল।তাই জেলার গমক্ষেত গুলোতে এবার ছত্রাকের প্রকোপ দেখা যায়নি।তবে এ জেলায় গম ক্ষেতে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি আরো জানান,গতএবছর জেলায় মাত্র ১৫হেক্টর জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে।তবে এবছর নতুন বারী ৩৩ জাতের গম চাষ হয়েছে।