শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৩ রজব ১৪৪৭

বৃষ্টির মতো কুয়াশা মানিকগঞ্জে , ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১১:২২ এএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৩ মঙ্গলবার

গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন মানিকগঞ্জের খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। পুরো উপজেলা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, রাজমিস্ত্রীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পোহাচ্ছন । বৃষ্টির মতো রাতভর পড়ছে কুয়াশা। অনেক বেলা করেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলছে সড়কে। এছাড়া তীব্র শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা।

গত কয়েক দিন থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকছে ঘন কুয়াশা। দেখা মিলছে না সূর্যের। ফলে বিপাকে পড়ছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। সকালে বাড়ি থেকে বেড় হয়েও কোনো কাজ পাচ্ছেন না তারা। কয়েকদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশায় মানিকগঞ্জের উপজেলার বিভিন্ন বাজার মোড়, সড়ক এলাকার রোডঘাট গুলোতে ঘন কুয়াশার কারণে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দিনের অধিকাংশ সময়ই সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে শীতের দাপটে জনজীবনে দূর্ভোগের পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো। 

আজ মঙ্গলবার  (৩জানুয়ারি ২০২৩ ) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দেখা যায় ঘন কুয়াশার কারনে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা অনেক কম। পরিবহন কম থাকার কারনে সাধারন কর্মজীবী মানুষ তাদের নিদিষ্ট গন্তব্য স্থাথে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে ও কাঁচামাল পরিবহন করতে দেখা গেছে কৃষকদের । শীতের বাড়ার সাথে সাথে মানিকগঞ্জের হাসপাতাল গুলোতে  বাড়ছে শীতজনিত রোগ-বালাই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

তারাসিমা গার্মেন্টস শ্রমিক রুবেল হোসেন জানানঃ তীব্র কুয়াশা আর শীতের কারণে মানুষ ঘরের বাইরে কম বের হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজন ও অফিসগামী মানুষ ছাড়া বাইরে তেমন লোকজনের আনাগোনা নেই। 

মানিকগঞ্জ বাস স্টান্ডের রিক্সাচালক দেলু মিয়া বলেন, দিনের অধিকাংশ সময়েই কুয়াশা থাকছে। এ কারণে জরুরী প্রয়োজন আর অফিসগামীরা  ছাড়া রাস্তায় কেউ বের হচ্ছে না। কুয়াশার কারণে ঠিকমত রাস্তা দেখা যায়না। দিনের অনেকটা সময় যাত্রী অভাবে বসে থাকতে হচ্ছে। ভাড়ার রিক্শা নিয়ে তেমন আয় করতে না পারায় ভোগান্তিতে আছি। 

সুমন নামের আর এক রিকশাচলক বলেন, পেটের দায়ে এই হাঁড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশার মধ্যে রিকশা নিয়ে আসছি। চারমাথায় বসে আছি, লোকজন নাই।
সাটুরিয়া উপজেলার  তিল্লী গ্রামের আবুল বলেন, বীজতলায় পানি দিতে যাচ্ছি। অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশায় ধানের চারা বেড়ে উঠতে সমস্যা হয়। এভাবে কুয়াশা পড়তে থাকলে বীজতলার ক্ষতি হবে।

এদিকে উপজেলার মানিকগঞ্জ  সদর এলাকার স্কুল শিক্ষক মতিন বলেন, অন্যান্য দিনের চেয়ে গত কয়েকটি  থেকে ঘন কুয়াশা পড়েছে। বাচ্চারা  শীতে কুঁকড়ে স্কুলে আসে । ঠান্ডা জনিত কারনে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

পাটুরিয়া ঘাটের মিজান জানান, ঘনকুয়াশার কারণে  পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে স্বাভাবিকভাবে বিগত কয়েকদিন যাবত ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দফা দফায় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। ফলে ঘাটগুলোতে আটকে পড়ছে যাত্রী এবং যানবাহন। আটকে পড়া এসব যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরি পার হতে। যাত্রীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই ফেরি ঘাটগুলোতে।গাড়ির জন্য রাস্তায় কষ্ট, ফেরির জন্য ঘাটে।এছাড়া দিনের অধিকাংশ সময়ই সূর্যের দেখা মেলে না।

মানিকগঞ্জ বাস স্টান্ডে সেলফি পরিবহনের ড্রাইভার বাবুল বলেনঃ মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশা পড়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে ঢাকা আরিচা সড়কে। এত ঘন হয়ে জমে যে ২০ হাত দূরের জিনিসও দৃশ্যমান হয় না। শীত বাড়ায় বিপাকে পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষ ও ড্রাইবার। সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে  বেগ পেতে হচ্ছে। কুয়াশার কারনে স্বল্প গতিতে চলতে হচ্ছে। ফলে সময় লাগছে বেশি। বিশেষ করে ঢাকাগামী বাসগুলো আমাদের শঙ্কা নিয়ে চলাতে হয়। কিন্ত শীতের কারনে মানিকগঞ্জের মার্কেট ঘুরে দেয়া যায়, কষ্ট থেকে পরিত্রাণের জন্য দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচা-কেনা জমজমাট। 

গোলড়া গ্রামের ঝাল মুড়ি বিক্রেতা রসিদ হোসেন বলেন, আমি সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চানাচুর বিক্রি করি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বেশ ঠান্ডা পড়ছে। এ কারণে সাইকেল চালিয়ে চলাচল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ঠান্ডার কারণে গ্রামগঞ্জে ঘুরছি, কিন্তু মানুষ আগের মতো বাইরে বের না হওয়ায় বিক্রি কমে গেছে।

এছাড়া মানিকগঞ্জে  শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। উষ্ণ কাপড়ের অভাবে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের ভোগান্তি বাড়ছে।হতদরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ভোর থেকে সকালে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে।