নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে, আপনাদেরকে জানাচ্ছি নববর্ষের সুচনা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৮:০৬ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শনিবার
প্রথমেই বলে রাখি, আমরা যেটাকে ইংরেজি নববর্ষ বলি এটা আদতে ইংরেজি নববর্ষ নয়। এটা হচ্ছে খ্রিস্টীয় নববর্ষ। যিশু অর্থাৎ ঈসা (আ.) এর জন্মবর্ষকে কেন্দ্র করে এই ক্যালেন্ডারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এটা প্রথমে এমন ছিল না। ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি প্রাচীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেন। উনার এই সংস্কারের ফলে যে নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি হয় তাকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বলে। যেহেতু এটা যিশুখ্রিস্টের জন্মের সাথে সম্পৃক্ত তাই এটাকে খ্রিস্টাব্দ বলা হয়।
আমাদের দেশে খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার এর আগমন:- নবীজি (স.) যেদিন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে আসলেন, সেই দিন থেকে হিজরির প্রথম সন হিসেবে ধরা হয়। এটা অবশ্য ওমর (রা.) এর কল্যাণে হয়েছে।
২০১ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ারুদ্দীন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী বঙ্গ দখলের মাধ্যমে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তখন থেকেই রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে হিজরি সন বাংলায় প্রচলিত হয়।
সুলতানী আমলে হোক, বা মুঘল আমল; রাষ্ট্রীয় কাজে, লেনদেনে, সর্বস্থলে হিজরি সন ব্যবহৃত হতো। তবে মুঘল সম্রাট আকবর ঋতুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সৌর সনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তখন থেকে রাজস্ব বা ফসলি সনের প্রবর্তন করা হয়।
কিন্তু ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন সংঘটিত পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলায় পরাধীনতা নেমে আসে এবং খ্রিস্টীয় সন প্রতিষ্ঠা হতে শুরু করে। যেহেতু এটা ইংরেজদের মাধ্যমে এসেছে তাই এটাকে ইংরেজি সন বলা হয়।
