সেনাবাহিনী প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত: সেনাপ্রধান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১:২১ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ বৃহস্পতিবার
সিলেটে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সেনাবাহিনী সুখে-দুঃখে সব সময় দেশের মানুষের পাশে থেকে যেকোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের কালিজুরী এলাকায় ১ হাজার ১০০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাবাহিনী প্রধান।
জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণকালে সেনাবাহিনী তার জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে অসহায়, দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের পাশে নিয়মিত দাঁড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সিলেট অঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশিক্ষণ এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণের এই মানবিক কার্যক্রম সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান ১৭ পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্বপূর্ণ শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়ন এবং জৈন্তাপুর উপজেলা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি স্বরূপ বিভিন্ন রণকৌশলগত প্রশিক্ষণ কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় সেনাবাহিনী প্রধান আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে উপস্থিত অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সেনা সদস্যদের নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও সিলেটের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান শীতবস্ত্র বিতরণের পর অসহায়দের মাঝে চিকিৎসাসেবা দিতে ১৭ পদাতিক ডিভিশন পরিচালিত ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিদর্শন করেন। এ মেডিকেল ক্যাম্পেইনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাসেবা ও বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা চোখের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধপত্র বিতরণ করা হয়।
সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম জনসাধারণকে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পাশাপাশি শীতের প্রকোপ এবং অসুস্থতা থেকে আরোগ্য পেতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
