‘বিদেশি কূটনীতিকদের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৭:০৩ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার
জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকরা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে তারা। এ সময় বিদেশি কূটনীতিকদের এমন আচরণ পরিত্যাগের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বমোড়লরা বিভিন্ন দেশে অব্যাহতভাবে আগ্রাসন, পুতুল সরকার বসানোর অপচেষ্টা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা মানবতার ফেরিওয়ালা সাজছেন। তারা একটি বিশেষ মহলকে সহায়তার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন।
এ সময় আরও বলা হয়, মোড়লদের হাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তারাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার মন্তব্য করেন। বিভিন্ন দেশে অন্যায়ভাবে আগ্রাসন চালিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার লঙ্ঘন তাদের কাছে নতুন কোনো বিষয় নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দেশের কূটনীতিকরা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে একটি বিশেষ মহলকে লাভবান করার অপচেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ভিয়েনা কনভেনশনে যে নীতিমালা আছে, সেই নীতিমালা অনুসারে তাদের কার্যক্রম চালাতে হবে। যার যার ইচ্ছেমতো এ দেশের রাজনীতিতে তারা জড়িয়ে পড়তে পারেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর পরামর্শ চায়; অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, অনধিকার চর্চা কিংবা দাসত্ব নয়। বিদেশিরা নয়, দেশের শাসনভারের দায়িত্ব ঠিক করবেন বাংলাদেশের মানুষ।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকার পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনারদের নানামুখী তৎপরতা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক নেতিবাচক মন্তব্য এবং প্রটোকল ভেঙে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাসা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই ঢাকার সব বিদেশি মিশনে চিঠি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বিদেশি এসব কূটনীতিক, প্রতিনিধিকে কূটনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন ও ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার মেনে চলা ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে বক্তব্য না দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
