শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৯ ১৪৩২   ০৪ রমজান ১৪৪৭

বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে- কমান্

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ এএম, ২২ অক্টোবর ২০২২ শনিবার

নগরীর কান্দিরপাড়ে বীরচন্দ্র পাঠাগারের মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারে কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুলের উদ্যোগে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুমিল্লা জেলা কমান্ড কর্তৃক “বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতার স্মরণে স্মরণ সভা” অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের স্মরণে নিরবতা পালন করেন উক্ত সভার সকল অতিথিবৃন্দ । যাদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয় তারা হলেন-  বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী জহিরুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক খোরশেদ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন খসরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবুল হাসেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক এবং মরহুম মিজানুর রহমান আজাদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কাজী জহিরুল কাইয়ুম বৃহত্তর কুমিল্লার  সর্বজনবিদিত নেতা ছিলেন এবং এখনো সবার মনে বিরাজ করছেন। ঠিক তেমনি ভাবে খোরশেদ আলম স্যার সহ আব্দুল মতিন খসরু ভাই এবং আজ যাদের স্মরণে কমান্ডার বাবুল সাহেব এই সভার আয়োজন করেছেন তারা সকলেই একেকজন ছিলেন লিডার। তারা সকলে আমাদের গর্ব। কমান্ডার বাবুলের আয়োজন সত্যিই বিরল যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। আর কোন জেলায় কোন জেলা কমান্ডার এরকম আয়োজন করেছেন বলে আমার জানা নাই। আশা করি এই স্মরণ সভা ধারাবাহিকভাবে আরও স্মরণী ও বরণীয় সকলের জন্য আয়োজিত হবে। সভার এক পর্যায়ে কমান্ডার শাহজাহান সাজু বলেন, বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধাদের শুধু স্মরণ সভা করলেই হবে না তাদের অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে। আমাদের বয়স হয়েছে তো কি হয়েছে, এখনো আমরা দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে মাঠে নামার জন্য মনমানসিকতা থাকতে হবে। আমাদের সন্তানদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এই বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনাচরণ সমন্ধে সম্যক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে তারা আর পথভ্রষ্ট হবে না। সভাপতির বক্তব্যে কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধারা সাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। শুধু স্বাধীনতা অর্জনই নয় একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে এদের অনেকেই কাজ করে গেছেন। আমাদের জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে আমরা তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আমাদের মনে রাখতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের একমাত্র পথনির্দেশক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা এবং তারই কন্যা মুক্তিযোদ্ধাদের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা। আমাদের সন্তানদের এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদের উজ্জিবীত করতে হবে যাতে তারা আমাদের পরে দেশের হাল ধরতে পারে। তারা যাতে পথভ্রষ্ট না হয় সেজন্য তাদের কাছে বিএনপি-জামাত-শিবিরের আসল পরিচয় তুলে ধরতে হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে রাজাকার, আল-বদর, বিএনপি-জামাত-শিবিরের লোকগুলো দখল করে আছে। তারা যাতে সেদিকে অগ্রসর না হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যে সম্মান দিয়েছেন তা আরকোন সরকার দেয় নাই। সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের শুধু অবহেলা করে গেছেন। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রতিমাসে ২০ হাজার করে সম্মানীভাতা দিচ্ছে। অথচ বিএনপি জামাত মাথাপিছু স্বল্প টাকা খরচ করেই বিভিন্ন এলাকায় মিটিং মিছিল এবং বিভিন্ন কর্মসূচীতে মানুষ ভাড়া করছে। আমাদের জন্য এটা লজ্জার বিষয়। প্রত্যেকটা এলাকাতে যদি একজন মুক্তিযোদ্ধাও এসব মিটিং মিছিলে বাধা প্রদান করতো তাহলে তারা এতটা তৎপরতা চালাতে পারতো না। আগামীতে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকে বিএনপি-জামাত বিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার শৈলপতি নন্দন চৌধুরী, সাংগঠনিক কমান্ডার জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। এসময় বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।