শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৯ ১৪৩২   ০৪ রমজান ১৪৪৭

প্রশাসন নজরদারিহীন খৈয়াছড়া ঝরণা, নিরাপত্তাহীনতায় পর্যটকরা!

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৬:৪৪ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ বুধবার

মাস খানেক ধরে প্রচন্ড কর্ম ব্যস্ততায় সময় পার করছি। কাজের চাপে মাথা ভো ভো করছিলো। ক্লান্ত মস্তিষ্ককে একটু অবসাদ দিতে এ শহর ছেড়ে ছুটে যেতে হবে কোন পাহাড়,সমুদ্র কিংবা ঝরণাতে। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চাই, মস্তিষ্ককে চাপমুক্ত করতে চাই। তাই যানজটের শহর ঢাকা ছেড়ে হঠাৎ ভ্রমণের বেড়িয়ে যাওয়ার কথা মাথায় আসে। আর হ্যা, ভ্রমণ হতে হবে এক দিনের। কারন সাপ্তাহিক ছুটি একদিন, একদিনের জন্য কোথায় যাওয়া যায়?

 

সেই চিন্তাধারা থেকে প্রথমেই হঠাৎ সীতাকুন্ডের কথা মাথায় আসে। সীতাকুন্ড গেলে একদিনে আমরা বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরতে এবং দেখতে পারবো। তাই কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই ছুটির দিনের আগের রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলে চেপে বসে সোঁজা সিতাকুন্ডের পথে (চট্রগ্রাম জেলায়)।

 

চট্রগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে খৈয়াছড়া ঝরণার অবস্থান। বড়তাকিয়া বাজার থেকে এক কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকি পুরো পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। কাঠের সাঁকো, কখনও বাঁশের সাঁকো,ক্ষেতের আইল এবং পাহাড়ের কোল ঘেষে আঁকা বাঁকা ঘন গহীন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চার থেকে পাঁচটি পাহাড় পেরিয়ে দেড় ঘণ্টা দুই ঘন্টা পায়ে হাটার পরে তবেই খৈয়াছড়া ঝরণার দেখা মিলবে।  খৈয়াছড়া ঝর্ণা আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝরণা। এর মোট ৯ টি মুল ধাপ এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ প্রমাণ করে যে এমন আর একটা ঝরণাও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঝরনা হওয়াতে এই ঝরণাকে বাংলাদেশের "ঝরণা রাণী" বলা হয়। ধারণা করা হয় প্রায় ৫০ বছর আগে থেকেই প্রবাহিত হচ্ছে খৈয়াছড়া ঝরণাটি। জনপদহীন পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গল,ঝোপ,ঝাড়ের গহীনে থাকায় ঝরণার অবস্থান আবিষ্কারে কয়েক যুগ সময় লেগেছে। আবার অনেকের ধারণা  প্রায় ৫০ বছর আগে পাহাড়ি ঢলের ফলে খৈয়া ছড়া ঝরণাটি তৈরি হয়েছে, এর পূর্বে এখানে ঝরণাটি ছিল না।

প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা এই সৌন্দর্য দেখতে দেশি এবং বিদেশি ভ্রমণপিয়াসুরা ছুটে চলে খৈয়া ছড়া ঝরণা দেখতে। অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টাঙ্গিয়ে অবস্থান করার ইচ্ছে পোষণ করে। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মী, নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে বা খৈয়াছড়া ঝরণায় রাত্রি যাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

 

গত তিন বছরে খৈয়াছড়া ঝরণায় পাহাড়, ঝরণা থেকে পা পিছলে এবং ডাকাতের কবলে পরে দূর্ঘটনায় ১৩ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ঝরণাটিতে সচেতনতার কোন বালাই নেই, নেই কোন সচেতনতা মূলক ব্যানার-ফেস্টুন। নেই কোন নিরাপত্তা কর্মী। জনপ্রতি ঝরনাতে প্রবেশ ফি ২০টাকা, বন বিভাগ ও ইজারাদার কর্তৃপক্ষের থেকে এমন বেশ কয়েকটি লিফলেট দেখা মিললেও মেলেনি কোন রোড ম্যাপ,বিপদজনক পথ, বিপদজনক পাহাড় বা বিপদজনক ঝরণার কোন সতর্ক বার্তা। গহীন পাহাড়ে প্রশাসন বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে নেই কোন নিরাপত্তা কর্মী বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জঙ্গলের ভিতর থেকে পর্যটকদের পথ হারিয়ে যাওয়া, ডাকাতি,অপহরণসহ বিভিন্ন বিপদে পরার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। ঝরণাগুলোতে যদি বন অধিদপ্তর বা প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকে এবং কোন স্থানে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কোন স্থানে গেলে নিরাপদ থাকবে, কোন ঝরণায় কতটুকু ওঠা যাবে, কোনটা ঝরণায় ওঠা যাবেনা, কোন পথে চলতে হবে, কোন পথে চলতে হবেনা, লোক শূন্য পথে বা পাহাড়ে বনের গহীনে যাওয়া যাবেনা, এমন দিক নির্দেশনা দেওয়া থাকলে বিভিন্ন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।