পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য যা করতেন তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৩:৫৩ পিএম, ১ জুন ২০২২ বুধবার
মো. মাসুদ মিয়ার (৪৮) স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদী। থাকেন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায়। তিনি বিদেশ যাওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে চান। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এজন্য একটি চক্রের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু পল্টন থানায় মাসুদ মিয়ার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটির আবেদন আসার পর থানা-পুলিশ যাচাই করে দেখে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য সংযুক্ত করা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্রের স্বাক্ষর ও সত্যায়নকারী চিকিৎসকের স্বাক্ষর ভুয়া।
মাসুদ মিয়ার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদনটি তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার একটি চক্র। মো. মাসুদ মিয়াসহ এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ। চক্রের গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন মো. গোলাম কিবরিয়া (৫৩) ও মো. কামাল হোসেন (৪৮)।
বুধবার (১ জুন) পল্টন মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ।
তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি জনবান্ধব নাগরিক সেবা হলো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সেবাটি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়। নাগরিককে সেবাটি ডিএমপি স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দিচ্ছে।
যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকে তাহলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবাটি সেই ব্যক্তি পাবে না। সেটার ওপর ভিত্তি করে যদি আবেনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা না থাকে তাহলে পুলিশ সিডিএমএস যাচাই করে আবেদনকারী ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকে সেক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয় না।
মতিঝিল বিভাগের ডিসি আ. আহাদ বলেন, গত ২০ এপ্রিল আসামি মাসুদ মিয়া পুলিশ কমিশনার বরাবর অনলাইনে একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করেন। যার রেফারেন্স নম্বর-২২০৪১৯৩২৬৫। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটি তদন্তকালে আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত অনলাইন ডকুমেন্ট সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গোপনে তদন্ত পরিচালনা করা হয়।

আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলের প্রত্যয়নপত্রটি যাচাই করে প্রত্যয়নপত্রটির স্বাক্ষর ও প্রত্যয়নপত্রটি সঠিক নয় বলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিখিতভাবে জানান। এর প্রেক্ষিতে গতকাল মো. মাসুদ মিয়াকে ফার্মগেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. কামাল হোসেনকে খিলক্ষেত এলাকা থেকে ও মো. গোলাম কিবরিয়াকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি মাসুদ মিয়ার নামে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানায় একাধিক মামলা থাকায় সে বিদেশ যাওয়ার জন্য পল্টন মডেল থানার ঠিকানা ব্যবহার করে। পল্টন মডেল থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য কামাল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে পাসপোর্ট দেয়। এরপর কামাল হোসেন ২৮ হাজার টাকার চুক্তিতে গোলাম কিবরিয়াকে পাসপোর্ট দেন।
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে মূল পাসপোর্টের তথ্যপাতা স্ক্যান করে জরুরি যোগাযোগের ঠিকানা কম্পিউটারের মাধ্যমে এডিট করে পল্টন মডেল থানার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করে। পাসপোর্ট ধারীর ঠিকানা পরিবর্তন ও এডিট করা পাসপোর্টের ফটোকপিতে জাল সিল ও জাল স্বাক্ষর করে সত্যায়নকারী চিকিৎসকের সিল ও স্বাক্ষর ভুয়া তৈরি করে সত্যায়নপূর্বক পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করে।
আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদপত্র, জাল সিল তৈরি করিয়া পাসপোর্টধারীর ঠিকানা পরিবর্তন করে এডিট করা পাসপোর্টের ফটোকপিতে জাল সিল ও স্বাক্ষর করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করে আসছিল।
চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করে টাকার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি করে দেবে বলে প্রতারণা করছিল। চক্রটি কিছুদিন আগে ছয়টি ভুয়া আবেদন করেছিল, যা পল্টন থানা রিজেক্ট করে।
