শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৩ রজব ১৪৪৭

আ’লীগের এমপি রাজীর চাচা তারেক কুমিল্লা উঃ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৪:৩৫ পিএম, ৩১ মে ২০২২ মঙ্গলবার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কুমিল্লা উত্তর জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
দলের পক্ষ থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
ওই আহবায়ক কমিটিতে- বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা- ৪(দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী এবং তার পুত্র সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার রিজবিউল আহসান মুন্সীকে রাখা হয়নি। মন্জু মুন্সীর স্ত্রী ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি সভাপতি বেগম মাজেদা আহসান মূন্সীকে রাখা হলেও তার ঘনিষ্ঠদের রাখা হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সরকারকে আহবায়ক ও  এএফএম তারেক মুন্সীকে সদস্যসচিব করে ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
   
সোমবার দেবীদ্বারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিষয়টি উত্থাপিত হলে উক্ত কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারন, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার ৫ বারের নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সীকে কমিটিতে রাখা হয়নি। এ প্রবীণ রাজনীতিকসহ তার স্ত্রী, পুত্র এবং ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে না রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী বলেন, আমার বয়স হয়েছে, আমাকে জোর করে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি বানানো হয়েছিল। আমি শহীদ জিয়া এবং দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতি করি, বিএনপিতে আছি এবং থাকব। এখনকার কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের অনুপস্থিত থাকা স্বাভাবিক, কারন কমিটিগুলো হয়-ই বানিজ্যিকীকরনের মাধ্যমে। যারা রাতারাতি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নেতৃত্বে আসেন তারা তার জবাব সময়মতো পাবেন। ওনার স্ত্রী বেগম মাজেদা আহসান মূন্সীকে আহবায়ক কমিটিতে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, মাজেদা আহসান মূন্সী ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর দলীয় কোনো পদে থাকার পক্ষে নন। তিনিও আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন।
 
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান মোল্লা বলেন, আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মূন্সী আওয়ামী পরিবারের লোক। এএফএম তারেক মুন্সী আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছোট ভাই এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল-এর আপন চাচা। তিনি বিএনপির পরিচয় দিলেও আদতে বিএনপির বিপক্ষে এবং আ’লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে এবং সহোদর ভাই এএফএম ফখরুল মুন্সীর পক্ষে কাজ করেছেন। এএফএম তারেক মূন্সীর ভাতিজা রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মূন্সী যখন ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেন তখন তিনি ভাতিজার পক্ষে কাজ করেন। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারেক মুন্সী নিজেই আওয়ামীলীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে এএফএম তারেক মুন্সী বড় ভাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ফখরুল মুন্সী ও ভাতিজা রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপির সহযোগীতায় মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ৩৪দিন জেল খাটান। তারেক মুন্সী ২০১৪ সালে এবং ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভাতিজা রাজী মোহাম্মদ ফখরুলে পক্ষে কাজ করেছেন। ২০২ ১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে তারেক মুন্সী আ’লীগের একাংশের সমর্থনে বিজয়ী হতে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছিলেন। ওই সময় বনকোট ভোটকেন্দ্রে নৌকা পেয়েছিল মাত্র ১৬ ভোট। যে কেন্দ্রটি ছিল আওয়ামী লীগের এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের নিজের কেন্দ্র।
তারেক মূন্সীর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব কথা ষড়যন্ত্র। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করাকালে একটি পোস্টার বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি এডিট করে অপপ্রচার করেছে। চলমান রাজনীতিতে তরুনদের সামনে এগিয়ে আনার প্রত্যয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে যোগ্য মনে করেই কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব করেছেন। আমি গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার রক্ষা এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধে রাজপথে আছি। যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন, তারা গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমাকে ভোট দেননি, নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আমার রাজনৈতিক গুরু। তিনি আমাকে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বানিয়েছেন। তাঁর সমর্থনেই আমি উপজেলা  পরিষদ নির্বাচন করেছি। পারিবারিকভাবে এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী আমার বড় ভাই, রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আমার ভাতিজা।
আপনি পাঠিয়েছেন