রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৫ রমজান ১৪৪৭

বিচারপতি সেজে পুলিশ প্রটোকলে ঢাকা টু মতলব

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত : ০১:৩১ পিএম, ২১ মে ২০২২ শনিবার

নিজেকে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি পরিচয় দিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ প্রটোকল নেন মো. বিপ্লব প্রধান (৪০)। পরে ভাড়া করা গাড়িতে চড়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথে বিভিন্ন জায়গায় বিচারপতির প্রটোকল ও সুবিধাও নেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌঁছলে সেখানকার ট্রাফিক পুলিশের কাছেও নিজেকে বিচারপতি হিসাবে পরিচয় দেন বিপ্লব। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি তার, বাড়িঘর দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়।
এরআগে কুমিল্লার দাউদকান্দি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) থেকে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশকে জানানো হয়, সেখানে একজন বিচারপতি যাচ্ছেন। এরপর পুলিশ বিপ্লব প্রধানকে প্রটোকল দিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখানে যাওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে, বিপ্লব ভুয়া বিচারপতি।

শুক্রবার দুপুরে মতলব পৌরসভার উত্তর দিঘলদী গ্রামের শমসের আলী প্রধানীয়া বাড়ি থেকে বিপ্লবকে আটক করে মতলব দক্ষিণ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটক বিপ্লব প্রধান উত্তর দিঘলদী গ্রামের মৃত মাহাবুব প্রধানের ছেলে। মতলব সরকারি কলেজ গেট এলাকায় তার একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে।

মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কল করে জানানো হয়, উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতি দাউদকান্দি হয়ে গাড়িতে উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামে তার বাড়িতে যাচ্ছেন। বিচারপতিকে প্রয়োজনীয় প্রটোকল দিতে বলা হয়।

এরপর দাউদকান্দি থেকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমানায় পৌঁছালে তাকে বিচারপতির প্রটোকল দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের অবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় দেখার পর সন্দেহ হয়। পরে এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজেকে ভুয়া বিচারপতি হিসাবে পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে প্রাইভেটকারসহ পুলিশ বিপ্লবকে আটক করে। এরপর দিনভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কলেজ গেট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিপ্লব কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেছিল। শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ভুয়া বিচারপতি হিসাবে পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মামলা হবে বলে জানান তিনি।