যে কারণে মজিবরকে নৃশংসভাবে হত্যা, বর্ণনা দিলেন রাসেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৬:৫২ পিএম, ১৯ মে ২০২২ বৃহস্পতিবার
প্রায় দেড় বছর পর গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানাধীন পারাবর্থান্থ পূর্বাচলের ভূমি ব্যবসায়ী মজিবর রহমান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত মো. রাসেল (৩৫) রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন পাতিরা এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। বুধবার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর খিলক্ষেত থানাধীন ডেলনা এলাকার স্থানীয় মজিবর রহমান ব্যবসায়িক কাজে বের হন। পরদিন গাজীপুরের কালীগঞ্জের পারাবর্থা সাকিনস্থ পূর্বাচল ২৫নং সেক্টর ওয়েস্টার্ন চত্বরের কয়েকশ গজ পশ্চিমে গজারি বন থেকে মজিবর রহমানের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
এ সংক্রান্তে ভিকটিমের স্ত্রী রুমি বেগম বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাসেলসহ ঘটনায় জড়িত তার সহযোগীরা ও মজিবর একসঙ্গে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মিডিয়া হিসেবে কাজ করতেন। এ সংক্রান্ত ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার পাতিরা মোড় এলাকার জনৈক মো. নছু মিয়া তার মালিকানাধীন পূর্বাচলে একটি প্লট বিক্রির জন্য ভিকটিম মজিবরকে দায়িত্ব দেয়। পরে মজিবর ও ঘটনায় জড়িত অপর আসামিরা ওই প্লটটি ভালো দামে বিক্রির জন্য চূড়ান্তভাবে মূল্য নির্ধারণ করেন।
ওই প্লটটি বিক্রয় করে যে লভ্যাংশ হবে তার অংশ ঘটনায় জড়িত আসামিরা ভিকটিমের কাছে দাবি করে। কিন্তু ভিকটিম লভ্যাংশের টাকা আসামিদের দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে আসামিরা ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার আগের দিন বিকাল ৩টার দিকে আসামিরা ভিকটিমকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পূর্বাচল ২৫নং সেক্টরে গজারি বনের ভেতর গিয়ে একসঙ্গে মাদক সেবন করে।
মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, ওই সময় আসামিদের একজন মজিবরের কপালে ঘুসি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে তারা মজিবরের হাত-পা চেপে ধরে বুকের উপর বসে প্লাস দিয়ে পায়ের নখ উঠায় এবং গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
গ্রেফতারকৃত রাসেল আদালতে স্বীকারোক্তি এবং অপর আসামিদের নাম উল্লেখ করে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
