আকাশে মেঘ দেখলেই বাড়ছে মজুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১০:০২ এএম, ১১ মে ২০২২ বুধবার
শেরপুরে কালবৈশাখি ঝড় আর শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় এখন আকাশে মেঘ দেখলেই বাড়ছে শ্রমিকের মজুরি। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০-৯০০ টাকা। ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় সন্ধ্যা হলেই কৃষকরা স্থানীয় বাজারগুলোতে ছুটছেন মৌসুমি শ্রমিক নিতে। কিন্তু শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাইলেই দ্রুত ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে ধান কাটতে পারেন কৃষকরা। জেলায় ৯১ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো আবাদ ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। গত কয়েক দিনে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকরা মাঠের পাকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একসঙ্গে সবাই ধানকাটা শুরু করায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। এ সুযোগে স্থানীয় শ্রমিকরা বাড়াতে থাকেন শ্রমের মূল্য। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন একজন শ্রমিকের সারা দিনের পারিশ্রমিক ছিল ৪ থেকে ৫০০ টাকা। এই শ্রমমূল্য বাড়তে বাড়তে এখন হাজার ছাড়িয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে নিজেই জমিতে নেমে কাটছেন ধান।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মুহিত কুমার দে জানান, কৃষকের ধান কাটতে শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে সরকার থেকে কৃষকদের সুলভ মূল্যে ধান কাটা ও মাড়াই করতে জেলায় মোট ৫৬টি হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছে করলে যে কোনো কৃষক ৬০ ভাগ সাশ্রয়ে ধান কাটতে পারেন। এসব মেশিনের মধ্যে শুধু ধান কাটার মেশিন রয়েছে ৮টি এবং কম্বাইন হারভেস্টার (কাটা ও মাড়াইসহ) রয়েছে ৪৮টি।
তিনি আরও জানান, এসব কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত অল্প খরচে অধিক জমির ধান কাটা যায়। তাই শ্রমিকের উচ্চ মজুরির ওপরও নির্ভর করতে হবে না তাদের। এ ছাড়া মাটিতে নুয়ে পড়া ধান কাটার জন্যও ওই মেশিনে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এই হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে জেলার সর্বত্র উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রচার চালানোর হচ্ছে। তারপরও কৃষক কেন যে হারভেস্টারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন না, তা বোধগম্য নয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ৫৪টি হারভেস্টারের মধ্যে সদর উপজেলায় কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে ৭টি, নকলায় কম্বাইন হারভেস্টার ১১টি এবং ছোট হারভেস্টার রয়েছে ৫টি, নালিতাবাড়িতে কম্বাইন হারভেস্টার ১৫টি, ঝিনাইগাতিতে কম্বাইন হারভেস্টার ৪টি এবং ছোট হারভেস্টার রয়েছে ৩টি এবং শ্রীবর্দীতে কম্বাইন হারভেস্টার রয়েছে ৯টি। বর্তমানে সব মেশিন পুরোদমে ধান কাটার কাজ করছে।
প্রতি একরে ধান কাটতে গত বছর মূল্য ছিল ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। তবে এ বছর তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। কোনো কৃষক হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে চাইলে মেশিনের মালিকের সঙ্গে কথা বলে দরদাম করে ধান কাটতে পারে। এতে প্রতি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে পারে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।
